দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় আদালতে বিচারাধীন একটি হত্যা মামলা ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে আপস-মীমাংসার অভিযোগ উঠেছে। তবে বাদীপক্ষের কয়েকজন এতে রাজি না হয়ে আদালতের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করায় দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
এ নিয়ে গত ২৫ জুলাই দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ কেন্দুয়া থানায় পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা করেছে। পাশাপাশি এক সাক্ষীকে আদালতে সাক্ষ্য দিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ গরু ধানক্ষেতে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। এতে আব্দুল মজিদ ওরফে দুলুর ছেলে রবিকুল ইসলাম নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের চাচা আব্দুল হেকিম ২২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলাটির দায়রা নম্বর ৫০/২০১৯। পুলিশ ও সিআইডির তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন।
সম্প্রতি মামলার বাদী আব্দুল হেকিম মারা যাওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে ঘরোয়াভাবে আপসের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে বাদীপক্ষের একটি অংশকে আপসে রাজি করানো হয়। তবে নিহতের বড় ভাই মিলন মিয়া ও মামলার সাক্ষী কামাল উদ্দিন এতে রাজি হননি। তারা আদালতের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
তাদের অভিযোগ, আপসে রাজি না হওয়ায় তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং পরিবার নিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। পরে স্থানীয় নেতাদের আশ্বাসে গত ২৫ জুলাই বাড়িতে ফিরলে তাদের ধাওয়া করা হয় এবং বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুট করা হয়।
নিহতের বড় ভাই মিলন মিয়া বলেন, “আমরা কোনো মীমাংসা চাই না। আদালতের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।”
মামলার আট নম্বর সাক্ষী ও নিহতের চাচাতো ভাই কামাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, আপসে রাজি না হওয়ায় তাদের এলাকায় থাকতে দেওয়া হচ্ছে না।
অন্যদিকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাজু মিয়া দাবি করেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে আপস হয়েছে। এরপরও গত ২৫ জুলাই তার ওপর হামলা চালিয়ে পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় মাজু মিয়ার ভাই বকুল মিয়া বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় একটি মামলা করেন। পরে হত্যা মামলার বাদী আব্দুল হেকিমের ছেলে ও আট নম্বর সাক্ষী কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে পৃথক আরেকটি মামলা করেন।
এ ছাড়া হত্যা মামলার ১২ নম্বর সাক্ষী মিলন মিয়া আদালতে সাক্ষ্য দিতে গেলে আসামিদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে কেন্দুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাজু বলেন, পারিবারিকভাবে আপসের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে বাদীপক্ষের কয়েকজন এতে রাজি না হওয়ায় বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
আইনজ্ঞদের মতে, হত্যা মামলা রাষ্ট্রের মামলা হওয়ায় স্থানীয়ভাবে কোনো আপস-মীমাংসা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া বন্ধ করতে পারে না। সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানো বা প্রভাবিত করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা আইনগতভাবে গুরুতর বিষয়।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। মামলা দুটির তদন্ত চলছে। তবে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়ানোর বিষয়টি তাকে কেউ জানায়নি। লিখিতভাবে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যে আই