দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় আদালতে বিচারাধীন একটি হত্যা মামলা ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে আপসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এর জেরে মারামারি, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় দুই পক্ষই কেন্দুয়া থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। পাশাপাশি এক সাক্ষীকে আদালতে সাক্ষ্য দিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও মামলাসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ গরু ধানক্ষেতে প্রবেশকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আব্দুল মজিদ ওরফে দুলুর ছেলে রবিকুল ইসলাম নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের চাচা আব্দুল হেকিম ২২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ ও সিআইডির তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
সম্প্রতি মামলার বাদী আব্দুল হেকিম মারা যাওয়ার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মামলার কয়েকজন সাক্ষীর সঙ্গে সমঝোতা করে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে মামলা মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
তবে নিহতের বড় ভাই ও মামলার ১২ নম্বর সাক্ষী মিলন মিয়া এবং ৮ নম্বর সাক্ষী কামাল উদ্দিন ওই আপসে রাজি হননি। তারা আদালতের মাধ্যমে হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এরপর তাদের ভয়ভীতি দেখানো এবং পরিবার নিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, স্থানীয় নেতাদের আশ্বাসে গত ২৫ জুলাই বাড়িতে ফিরলে তাদের ধাওয়া করা হয়। এ সময় বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের ঘটনা ঘটে।
মিলন মিয়া বলেন, “আমরা কোনো মীমাংসা চাই না। আদালতের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।”
কামাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, আপসে রাজি না হওয়ায় তাদের এলাকায় থাকতে দেওয়া হচ্ছে না।
অন্যদিকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাজু মিয়া দাবি করেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে আপস হয়েছে। এরপরও গত ২৫ জুলাই তার ওপর হামলা চালিয়ে পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাজু বলেন, পারিবারিকভাবে আপসের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে বাদীপক্ষের কয়েকজন এতে রাজি না হওয়ায় বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
আইনজ্ঞরা বলছেন, হত্যা মামলা রাষ্ট্রের মামলা হওয়ায় স্থানীয়ভাবে কোনো আপস-মীমাংসা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া বন্ধ করতে পারে না। এছাড়া সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানো বা প্রভাবিত করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা আইনগতভাবে গুরুতর বিষয়।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। মামলা দুটির তদন্ত চলছে। তবে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে থাকার বিষয়টি তাকে কেউ জানায়নি। লিখিতভাবে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যে আই