দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাতের আঁধারে কক্সবাজারের রামুর শত বছরের প্রাচীন বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে চালানো ভয়াবহ হামলার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও শেষ হয়নি বিচারপ্রক্রিয়া। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলালেও বিচারের ধীরগতিতে হতাশা কাটেনি স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের।
২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর এক বৌদ্ধ যুবক উত্তম বড়ুয়ার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ অবমাননার অভিযোগে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে রামুতে সহিংসতা শুরু হয়। হামলায় রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারসহ ১৮টি প্রাচীন বৌদ্ধবিহার ও বেশ কয়েকটি বসতঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ধ্বংস করা হয় ঐতিহাসিক ধর্মীয় নিদর্শনও।
কক্সবাজার বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের নেতা ও সীমা বিহারের প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, চোখের সামনে শত বছরের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ধ্বংস হতে দেখার স্মৃতি এখনও তাদের মনে অম্লান। বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সাক্ষীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘটনার ১৪ বছর একটি দীর্ঘ সময়। স্থানীয়দের আস্থা ফেরাতে দ্রুত বিচারকাজ শেষ করা জরুরি।
কক্সবাজার-৩ (সদর ও রামু) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল মনে করেন, বিগত সময়ে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেক নির্দোষ মানুষকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন ও প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে তিনি মামলাগুলোর পুনঃতদন্তের দাবি জানান।
মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, সাক্ষীদের অনাগ্রহ বা আদালতে উপস্থিত না হওয়ার কারণেই মূলত রায় ঘোষণায় বিলম্ব হচ্ছে। সরকারপক্ষ দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তির চেষ্টা করছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, রামুর বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে হামলার ঘটনায় ৩৭৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আসামি মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার ১৮২ জনের বিরুদ্ধে মোট ১৯টি মামলা করা হয়। পরে বাদীর আবেদনে একটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়। বাকি ১৮টি মামলায় পুলিশ ৯৪৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। বর্তমানে এসব মামলার আসামিরা সবাই জামিনে রয়েছেন।
এদিকে, যে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে রামুর সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছিল বলে অভিযোগ, সেই উত্তম বড়ুয়া বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে ফ্রান্সে বসবাস করছেন।
যে আই