দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মাগুরা দাখিল মাদ্রাসায় চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৯ শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। অথচ প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত রয়েছেন ১৭ জন শিক্ষক। এমন ফলাফলে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে বিস্ময় ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটি ২০০১ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৭ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী রয়েছেন। তবে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সংকট রয়েছে মাদ্রাসাটিতে।
মাদ্রাসাটি চলনবিলের প্রত্যন্ত এলাকায় এবং ভাঙ্গুড়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় আট-নয় কিলোমিটার দূরে হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষক উপজেলা সদরে বসবাস করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, যাতায়াতের দূরত্বের কারণে অনেক শিক্ষক নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন না। ফলে পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।
অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদানে গাফিলতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান কমেছে। গত এক দশক ধরে দাখিল পরীক্ষার ফলাফলেও এর প্রভাব পড়ছে বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, শিক্ষকরা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে এসে পাঠদান করেন না। এ কারণে সচেতন অভিভাবকেরা সন্তানদের এই মাদ্রাসায় ভর্তি করাতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
তবে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুরোপুরি স্বীকার না করে মাদ্রাসার সুপার জাকির হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগের অভাবের কারণেই এবার সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরেও এসেছে। ভাঙ্গুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান বলেন, কী কারণে এমন ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলের মতে, এমন ফলাফলের জন্য শুধু শিক্ষার্থীদের দায়ী না করে শিক্ষক উপস্থিতি, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার পরিবেশ ও প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে চলা শিক্ষার্থী সংকট ও ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এমএম/