দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাতক্ষীরায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন জেলা আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দলের একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কমিটিকে ‘অস্বচ্ছ’ ও ‘একপেশে’ আখ্যা দিয়ে তা পরিবর্তনের জন্য ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তাঁরা। এ সময়ের মধ্যে কমিটি পরিবর্তন না হলে গণপদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন অসন্তুষ্ট নেতাকর্মীরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট মোড়ের একটি হোটেলে পৃথক সংবাদ সম্মেলন ও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব ঘোষণা দেওয়া হয়। একই দিন সন্ধ্যায় জাতীয় ছাত্রশক্তির সাতক্ষীরা জেলা শাখার পক্ষ থেকেও নতুন কমিটি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেওয়া হয়।
রোববার আগামী ছয় মাসের জন্য সাতক্ষীরা জেলা এনসিপির ১৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়। দলের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
কমিটিতে অধ্যক্ষ মো. আখতারুজ্জামানকে আহ্বায়ক, মো. কামরুজ্জামান বুলুকে সদস্যসচিব এবং আক্তারুল ইসলামকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন এস এম রজব আলী। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন সি এম নাজমুল ইসলাম ও শেখ নাজমুল হুদা। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দিতে বলা হয়েছে।
নতুন কমিটির বিরোধিতাকারী নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সাতক্ষীরায় দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকলেও বিভিন্ন কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাঁরা শ্রম, সময় ও ত্যাগ স্বীকার করে সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু নতুন কমিটিতে মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন কাজ করা অধিকাংশ নেতাকর্মীকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।
তাঁরা বলেন, এ প্রতিবাদ কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়; বরং প্রশ্নবিদ্ধ সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে। পদ-পদবি ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে নয়, ত্যাগ, যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মাঠপর্যায়ের ভূমিকার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা উচিত।
নতুন কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পাওয়া মো. কামরুজ্জামান বুলু বলেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি পরিবর্তন না হলে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। তিনি তাঁর বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ থেকেও পদত্যাগ করবেন বলে জানান।
এ সময় জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সি এম নাজমুল ইসলাম, সদস্যসচিব মো. কামরুজ্জামান বুলু, যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ আবদুল্লাহ, সদর উপজেলা কমিটির সমন্বয়কারী মাছুম আশরাফ উদ্দীন, শেখ আল ইমরান, রফিকুল ইসলাম, বার্নাবাশ দাদা ও আবদুল্লাহ আবদুল মালেকসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে সন্ধ্যায় জাতীয় ছাত্রশক্তির সাতক্ষীরা জেলা শাখার পক্ষ থেকে দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নতুন জেলা আহ্বায়ক কমিটিকে ‘অস্বচ্ছ’ ও ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী’ বলে দাবি করা হয়। প্রকৃত আন্দোলনকারী ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করে ‘একপেশে ও পকেট কমিটি’ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
জাতীয় ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত মাঠপর্যায়ের ত্যাগী কর্মী ও আন্দোলনের প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে কমিটি পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বর্তমান কমিটি স্থগিত করে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।
জাতীয় ছাত্রশক্তির সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহ্বায়ক হাসিবুল হাসান রুমন, সদস্যসচিব বখতিয়ার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক মোজাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন উপজেলা নেতারা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন।
জেলা শাখার সদস্যসচিব বখতিয়ার হোসেন বলেন, নতুন কমিটি অস্বচ্ছ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী। প্রকৃত আন্দোলনকারী ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করে ‘একপেশে ও পকেট কমিটি’ করা হয়েছে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি পরিবর্তন করে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।
কমিটি নিয়ে অসন্তোষের বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির সাতক্ষীরা জেলা আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মো. আখতারুজ্জামান বলেন, কামরুজ্জামান আহ্বায়ক পদপ্রত্যাশী ছিলেন। গণতান্ত্রিক সংগঠনে কোনো পদপ্রত্যাশী পছন্দের পদ না পেয়ে আপত্তি জানাতে পারেন। তবে কমিটি নিয়ে তাঁদের অভিযোগ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দেখবে।
তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও পরবর্তী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে যাঁরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছেন, তাঁদের মূল্যায়ন করেই কমিটি দিয়েছে। আমার মনে হয়, যথাযথ মূল্যায়ন হয়েছে। এখন কমিটি নিয়ে যাঁদের অভিযোগ, সেটি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিষয়। আমি নতুন, নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের দিকে মনোযোগ দিতে চাই।’
এমএম/