দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২০০৯ সালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় আইলায় বাবা-মা বাংলাদেশের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা গ্রাম ছেড়েছিল। মেয়ে মরিয়ম ও বাইরে ছিল। কিন্তু জীবনের পপ্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে সেই গাবুরাতেই ফিরে এলো স্থায়ী বাসিন্দা হতে। চিরনিদ্রায় শায়িত হতে। তবে গভীর অন্ধকার রাতে দাফন নিয়ে সর্বত্র প্রশ্ন উঠলেও নজরুল বাহিনীর ভয়ে মুখ খুলেনি কেউ। পুলিশ নিয়ে মাত্র কয়েকজন স্বজনের উপস্থিতিতে রাতের অন্ধকারে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে গাবুরা ইউনিয়নের সরদার পাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রাত প্রায় ১১টার দিকে কপোতাক্ষ নদ পেরিয়ে ট্রলারে করে মরিয়মের মরদেহ গাবুরার সরদার পাড়ায় পৌঁছায়। ঢাকায় ময়নাতদন্তসহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি সাতক্ষীরায় আনা হয়। পরে সড়কপথে ও নদীপথ পেরিয়ে মরদেহ পৌঁছায় তার জন্মভূমি। মরিয়মের সঙ্গে ছিলেন তার বাবা মাসুম বিল্লাহ, মা, দাদি, নানি, ফুপা, ফুপি ও ছোট চাচা মোতাসিম বিল্লাহসহ স্বজনরা।
শ্যামনগর থানার এসআই অনিরুদ্ধ বলেন, অনিরাপত্তার বিষয় নয়, আমরা দায়িত্ব পালন করার জন্য গাবুরাতে উপস্থিত ছিলাম। দাফন কাফন কাজ সম্পন্ন করা পর্যন্তই আমরা প্রস্তুত ছিলাম। ভোররাতে ফিরে এসেছি শ্যামনগরে।
মরদেহ পৌঁছানোর পর গাবুরা পশ্চিমপাড়া সরদার বাড়ি জামে মসজিদের পাশে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুল হুদা জানাজায় ইমামতি করেন। এতে স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা এবং শ্যামনগর থানার এসআই অনিরুদ্ধ রায় ও বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
জানাজায় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা মরিয়মের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং তার আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করতে উপস্থিতদের প্রতি আহ্বান জানান।
দাফনের আগে স্বজনরা মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
মরিয়মের বড় চাচি মুন্নী আক্তার বলেন, মেয়েটি অনেক মেধাবী ছিল। জানি না এটা কেন ঘটেছে। মৃত্যুর রহস্য এখনো জানা যায়নি। ওর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমাদের মেয়ে খুবই নরম ও ভদ্র ছিল। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।

মরিয়মের স্বজন ইয়াহিয়া বলেন, গতকাল রাত ৭টার দিকে জানতে পারি মরিয়ম নাকি আত্মহত্যা করেছে। তবে প্রকৃত ঘটনা তো আমরা জানি না। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
মরিয়মের জন্মভূমি চৌদ্দরশি গ্রামে এখন পরিবারের কেউ স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না। তবে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ দেখা যায়।
এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলামের নামে বরাদ্দ করা ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে।
মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে এখন তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। সবার একটাই প্রত্যাশা জীবিত অবস্থায় পাইনি তবে এখন অন্তত ন্যায় বিচার পাক মৃত মরিয়ম।
কেএম