দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কয়েক দিন আগেও যে ছেলেকে ঘিরে পরিবারের ছিল নানা স্বপ্ন, এসএসসি পরীক্ষায় তার জিপিএ-৫ পাওয়ার খবরই এখন বাবা-মায়ের কাছে হয়ে উঠেছে বুকভাঙা বেদনা। ফল প্রকাশের দিনে ছেলের কৃতিত্বের খবর পেলেও সেই আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মতো প্রিয় সন্তানটি আর নেই। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোক ও আহাজারিতে ভেঙে পড়েছেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার শিহাব হোসেনের বাবা-মা।
শিহাব হোসেন (১৮) উপজেলার রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের নারান্দিয়া গ্রামের জহিরুল ইসলাম শিপনের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম নৌবাহিনী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে গত শুক্রবার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে ঘুরতে যান শিহাব। পরে সাঁতরে নদী পার হওয়ার সময় প্রবল স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নদীর কচুরিপানার নিচ থেকে ডুবুরি দল তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শিহাবের মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারটিতে নেমে আসে শোকের ছায়া। এর মধ্যেই প্রকাশিত হয় এসএসসি পরীক্ষার ফল। ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েছেন শিহাব। কিন্তু সন্তানের এই অসাধারণ সাফল্য উদযাপনের বদলে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাঁর বাবা-মা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিহাবের বাবা-মা বলেন, আমাদের ছেলে জিপিএ-৫ পেয়েছে। কিন্তু আমরা এই আনন্দ কার সঙ্গে ভাগ করে নেব? ছেলে তো আমাদের মাঝে নেই।
শিহাব ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। ফলে তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটির শূন্যতা আরও গভীর হয়েছে। সন্তানের সাফল্যের দিনে তাকে কাছে না পাওয়ার কষ্ট কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিহাব ছিলেন ভদ্র, মেধাবী ও সবার প্রিয় একজন ছেলে। তাঁর আচরণে মুগ্ধ ছিলেন পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজন। তাঁর এমন অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের আবহ।
শিহাবের শিক্ষক ও সহপাঠীরাও তাঁর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। তাঁদের কাছে শিহাব শুধু একজন মেধাবী শিক্ষার্থীই ছিলেন না, ছিলেন ভালো মনের বন্ধু ও প্রিয় সহপাঠী। এসএসসির ফল প্রকাশের দিনে তাঁর জিপিএ-৫ পাওয়ার খবর একদিকে যেমন গর্বের, অন্যদিকে তাঁকে হারানোর বেদনা আরও তীব্র করে তুলেছে।
সহপাঠীরা বলেন, শিহাব বেঁচে থাকলে হয়তো সবার সঙ্গে নিজের ফলাফল নিয়ে আনন্দ ভাগ করে নিতেন। বন্ধুদের সঙ্গে ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে কথা বলতেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন ডাকাতিয়া নদীর স্রোতেই থেমে গেছে।
শিহাবের শিক্ষকরা বলেন, মেধাবী ও সম্ভাবনাময় এই শিক্ষার্থীর সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছিল। তাঁর ফলাফলই মেধা ও পরিশ্রমের প্রমাণ। কিন্তু এমন একটি দিনে তাঁকে হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
শিহাবের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই নারান্দিয়া গ্রামে শোকের আবহ বিরাজ করছে। আর এসএসসির ফল প্রকাশের দিনে জিপিএ-৫ পাওয়া শিহাব তাঁর পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছে আনন্দ-বেদনার এক মর্মস্পর্শী স্মৃতি হয়ে রইলেন।
এমএস/