দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার শিবপুরে দুই শিক্ষকের পক্ষে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলার ঘটনায় ইকরাম মোল্লা (৫০) নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিবপুর ত্বহা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ ইকরাম মোল্লা আটঘরিয়া উপজেলার কদিম বাগদিপাড়া গ্রামের জবির মোল্লার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি শিবপুর ত্বহা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক শামসুল আলম মঞ্জু ও একই প্রতিষ্ঠানের প্রভাষক আফরোজা খাতুনের বিরুদ্ধে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। তাঁদের অপসারণের দাবিতে গত ৩ আগস্ট মাদরাসার প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেন স্থানীয় একটি পক্ষ।
এর প্রতিবাদে ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে রোববার পাল্টা মানববন্ধনের আয়োজন করে অপর একটি পক্ষ। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাদরাসার প্রধান ফটকের সামনে ব্যানার নিয়ে তাঁরা দাঁড়ালে টিপু বিশ্বাস ও তাঁর সহযোগীরা সেখানে গিয়ে ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে মানববন্ধনে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের দাবি, একপর্যায়ে টিপু বিশ্বাস কোমর থেকে পিস্তল বের করে প্রথমে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেন। পরে তাঁকে বাধা দিতে গেলে ইকরাম মোল্লার পেটে গুলি করেন তিনি। এরপর টিপু বিশ্বাস ও তাঁর সহযোগীরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয়রা ইকরাম মোল্লাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আটঘরিয়া ও আতাইকুলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর দুই শিক্ষকের পক্ষের লোকজন ও স্বজনেরা মানববন্ধন করেন। সেখানে বক্তারা অভিযোগ করেন, মাদরাসার শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম নষ্ট করতে একটি পক্ষ শামসুল আলম মঞ্জু ও আফরোজা খাতুনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তাঁরা মানববন্ধনে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান।
অভিযোগ অস্বীকার করে শামসুল আলম মঞ্জু বলেন, একটি কুচক্রী মহল তাঁকে মাদরাসা থেকে বিতাড়িত করতে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত নন এবং তাঁকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অভিযুক্ত টিপু বিশ্বাস ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমএস/