দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের আরামবাগ-বালুবাগান এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৪৩ লাখ ৪৫ হাজার মূল্যমানের ভারতীয় রুপির জাল নোট ও জাল মুদ্রা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করেছে র্যাব। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও জাল রুপি তৈরির মূল হোতা হিসেবে পরিচিত ‘খান সাহেব’কে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার রাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টার অভিযানে এসব জাল নোট ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে তসিকুল ইসলাম এবং নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার মন্দিমোড় এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে শামীম আলী। র্যাবের দাবি, তাঁরা জাল মুদ্রা তৈরিতে খান সাহেবের হয়ে কাজ করতেন।
র্যাব ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ‘খান সাহেব’ নামে পরিচিত মোহাম্মদ খান সাহেব জাল মুদ্রা তৈরির একটি আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে জড়িত। কয়েক বছর ধরে তিনি জাল মুদ্রা তৈরির কারবারে যুক্ত বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে।
রোববার সকালে বালুবাগানের ওই বাড়িতে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খান সাহেবকে খুব কমই দেখা যেত। বাড়িটির তিনতলার দ্বিতীয় তলায় জাল মুদ্রা তৈরির কারখানা গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে জাল নোট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম রাখা হতো। বাড়িটির কলাপসিবল গেট বেশিরভাগ সময় তালাবদ্ধ থাকত বলেও জানান স্থানীয়রা।
র্যাব-৫-এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখার হোসেন মাহমুদ বলেন, খান সাহেবের পুরো নাম মোহাম্মদ খান সাহেব। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা এলাকার মোহাম্মদ হোসেন আলী ও মোসাম্মৎ আছিয়া বেগমের ছেলে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, তিনি কয়েক বছর ধরে জাল মুদ্রা তৈরির সঙ্গে জড়িত। মূলত ভারতীয় রুপির জাল নোট তৈরি করতেন তিনি।
র্যাব কর্মকর্তা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওই বাড়িতে এক বছরের বেশি সময় ধরে জাল রুপি তৈরির কাজ চলছিল। খান সাহেব বাড়িটি ভাড়া নিয়ে দক্ষ শ্রমিকদের মাধ্যমে সেখানে জাল মুদ্রা তৈরি করতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
ইফতেখার হোসেন মাহমুদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, খান সাহেব জাল মুদ্রা তৈরির একটি আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। চক্রটির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি বাড়ি ভাড়া নিয়ে দক্ষ লোক এনে জাল মুদ্রা তৈরি করতেন।
খান সাহেবের বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে র্যাব কর্মকর্তা বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলার রেকর্ড পাওয়া যায়নি। এর আগে গ্রেপ্তারের তথ্যও র্যাবের কাছে নেই। তবে তাঁকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এমএস/