দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে তালাক দেওয়া পুত্রবধূকে ফের ঘরে তোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের সংঘর্ষে আহত রাবেয়া খাতুন (৩৯) মারা গেছেন। শনিবার (৮ আগষ্ট) দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের মাজগ্রাম এলাকার ভ্যানচালক মকছেদ আলীর স্ত্রী।
স্বজনদের ভাষ্য, তালাক দেওয়া পুত্রবধূকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনায় ক্ষুব্ধ হয়ে একই এলাকার আকুব্বর শেখের দুই ছেলে শরিফ হোসেন (২৬) ও রাকিবুল ইসলাম এবং চাঁদ আলীর ছেলে আসাদুল হোসেন (৩০) সহ তাদের সহপাঠীরা রাবেয়াকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয় ও পিটিয়ে হত্যা করেছে। অভিযুক্তরা রাবেয়ার আপন ভাতিজা।
পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে পারিবারিক কলহের জেরে রাবেয়ার বড় ছেলে সুমনের বউ বৃষ্টিকে তালাক দেওয়া হয়। কিন্তু ধর্মীয় রীতিনীতি না মেনে ৪ আগষ্ট সেই পুত্রবধূকে ফের বাড়ি নিয়ে আসেন রাবেয়া। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওইদিন সন্ধ্যায় শরিফ, রাকিবুল, আসাদুল ও তাদের সহযোগীরা রড, চাপাতি, বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম, হাতুড়িসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাবেয়ার বাড়িতে আসেন।
এরপর উভয়পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে রাবেয়া মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর অসু্স্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দুইদিন চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহত রাবেয়ার ভাই বাদী হয়ে গত শুক্রবার রাতে পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারিনি পুলিশ।
পুত্রবধূ বৃষ্টি খাতুন বলেন, তিনমাসে আগে আমাকে তালাক দিয়েছেন। সেদিন (৪ আগস্ট) আমার স্বামী-শ্বাশুড়ি মিলে আমাকে পুনরায় বিয়ে দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেজন্য শরিফ, রাকিব, আসাদুলরা এসে শ্বাশুড়ি, স্বামী ও দেবরের সাথে তর্কাতর্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা তুমুল মারামারি লাগায়। অন্ধকার ছিল, সেজন্য কে কাকে মারেছে তা বুঝা যাচ্ছিল না। আমার স্বামীকেও ব্যাপক মারধর করা হয়েছে।
নিহত রাবেয়ার স্বামী মকছেদ আলী বলেন, ভাতিজাদের না জানিয়ে ছেলের বউকে (পুত্রবধূ) বাড়ি নিয়ে আসেন আমার স্ত্রী। সেই রাগে ভাতিজা শরিফ, রাকিব, আসাদুলরা এসে হুট করে হামলা চালায়। এতে আমার আহত বউ আজ মেডিকেলে মারা গেছে। আমি এর বিচার চাই।
মামলার বাদি রাবেয়ার ভাই সাইদুল রহমান বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে ভাতিজারা মিলে রাবেয়াকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে। অপরাধীদের সঠিক শাস্তির আশায় থানায় মামলা করেছি। তার ভাষ্য, চিকিৎসক রাবেয়ার মাথে ১৪টি সেলাই দিয়েছিল।
এ দিকে মৃত্যুর খবর শুনে গা ঢাকা দিয়ছে অভিযুক্ত ভাতিজারা। শনিবার বিকেলে সরেজমিন বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায় না। তবে অভিযুক্ত রাকিবুলের স্ত্রী আর্জিনা খাতুন ও শরিফের স্ত্রী কাজলী খাতুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তালাক দেওয়া বউ কাউকে না জানিয়ে ঘরে তোলেছে। আমাদের স্বামীরা একথা শুনতে গেলে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওরা ( রাবেয়ার ছেলেরা) মারধর করে। পরে মারামারির ভিতরে কে কার মারেছে তা কেউ জানেনা। স্বামীরা কাউকে হত্যা করেনি।' তাদের ভাষ্য, এ ঘটনায় তাদের স্বামীরা আহত হয়েছেন।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, তালাক দেওয়া পুত্রবধূকে ফিরিয়ে আনা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আহত রাবেয়া আজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
কেএম