দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের বিরুদ্ধে সংবাদকর্মীদের ফোন রিসিভ না করা এবং ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে অনীহার অভিযোগ উঠেছে। জেলার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও সমসাময়িক বিষয়ে বক্তব্য নিতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি অধিকাংশ সময় ফোন না ধরে "Please text me" লিখে বার্তা পাঠান বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। তাদের দাবি, এতে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সময় টেলিভিশনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি বাদশাহ সৈকত একটি সড়কের ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিতে তার কার্যালয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করানোর পরও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।
বাদশাহ সৈকতের দাবি, বক্তব্য না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি কিংবা আমার প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে কথা বলবে না।’
পরে বাদশাহ সৈকত নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেন, “কোন গোপন রহস্যে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় কথা বলতে চান না কুড়িগ্রামের ডিসি অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জানতে চায় জাতি!”
সংবাদকর্মীদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে স্থানীয় কোনো গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দেননি। এমনকি তার অনুমতি ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারাও ক্যামেরায় কথা বলেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ডিবিসি নিউজের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান তুহিন বলেন, জেলার উন্নয়ন, সমস্যা বা সংকট নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জন্য জেলা প্রশাসকের বক্তব্য চাইলে তিনি বিভিন্নভাবে তা এড়িয়ে যান।
এসএ টিভির প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ‘পরপর কয়েকজন নারী জেলা প্রশাসক পেয়েছিলাম। কমবেশি সবাই একই ধরনের আচরণ করেছেন।’
চ্যানেল ওয়ানের প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা প্রশাসক জনগণের সেবক। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলা মানে জনগণের কাছেই জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়া।’
দেশ টিভির প্রতিনিধি জুয়েল রানা বলেন, ‘বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য নিতে ফোন করলে অধিকাংশ সময়ই তিনি ফোন না ধরে “Please text me” লিখে বার্তা পাঠান।’
জাগো নিউজ ও দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি রোকনুরজ্জামান মানু বলেন, বিভিন্ন সংবাদের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ফোন করা হলেও তিনি বেশিরভাগ সময় কল রিসিভ করেন না।
দীপ্ত টিভির প্রতিনিধি মো. ইউনুছ আলী বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে চলা কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়।’
নাগরিক টিভির প্রতিনিধি ফজলুল করিম ফারাজি বলেন, জেলার উন্নয়নমূলক নানা বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রশাসনের আরও কার্যকর যোগাযোগ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এমএস/