দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

একসময় ঝালকাঠির রাজনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ছিল আওয়ামী লীগের সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমুর রোনালসে সড়কের বাসভবন। জেলার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, নেতা-কর্মীদের আনাগোনা ও দলীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল এই বাড়ি। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রায় দুই বছর পর ভবনটি এখন পরিত্যক্ত, ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় এবং স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিক্ষুব্ধ জনতার ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে বাড়িটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দেখভালের অভাবে ভবনটির জরাজীর্ণতা দিন দিন বাড়ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের বিভিন্ন অংশে এখনও অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের চিহ্ন রয়েছে। ভাঙা দরজা-জানালা, ক্ষতিগ্রস্ত দেয়াল, পোড়া কক্ষ এবং চারদিকে ছড়িয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা ভবনটির বর্তমান অবস্থার সাক্ষ্য দিচ্ছে। জমে থাকা আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে আশপাশের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।
ভবনের কয়েকটি কক্ষে মাদকসেবনের ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে পরিত্যক্ত ভবনটিতে অসামাজিক কর্মকাণ্ডও ঘটে। নিরাপত্তা ও নজরদারির অভাবে এটি অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত মে মাসে রাতের আঁধারে কে বা কারা ভবনের প্রধান ফটক ও সামনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ টিন দিয়ে ঘিরে দেয়। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা সেই টিনের বেড়া অপসারণ করেন। এ সময় লোহার প্রধান গেটের একটি অংশ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দুটি ব্যানার টানিয়ে দেন। এর মধ্যে একটিতে লেখা ছিল, “আমাকে ব্যবহার করুন, পৌরবাসীর ময়লা ফেলার স্থান।” এরপর থেকেই সেখানে অনেকেই ময়লা-আবর্জনা ফেলতে শুরু করেন।
জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সৈয়দ আলী হাসান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর বিক্ষুব্ধ জনতা আমির হোসেন আমুর বাসভবনে অগ্নিসংযোগ করে। এতে বাড়িটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভেতরের বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে যায়। পরে ওই বাড়ি থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনাও আলোচনায় আসে। এরপর থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাড়িটিতে আবার হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে স্থানীয় অনেকেই সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন। ফলে এটি কার্যত একটি অস্থায়ী ডাম্পিং স্থানে পরিণত হয়েছে।
ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “বর্তমানে এটি যে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে, তা থেকে ফ্যাসিস্টদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।”
আমির হোসেন আমু ঝালকাঠি-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক শিল্পমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। ঝালকাঠিতে অবস্থানকালে তিনি এই বাসভবন থেকেই দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। সময়ের ব্যবধানে একসময়কার সেই রাজনৈতিক কেন্দ্র এখন পরিণত হয়েছে পরিত্যক্ত ধ্বংসস্তূপে।
স্থানীয়দের দাবি, ভবনটি ঘিরে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এটি আরও বড় ধরনের সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
এমএস/