দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লক্ষ্মীপুরে হত্যা মামলায় আবু বকর ছিদ্দিক নামে এক জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
আবু বকর ছিদ্দিক কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন। তিনি চর সামছুদ্দিন গ্রামের আলী উল্যা হাওলাদারের ছেলে।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৫ জুন দিবাগত রাতে সালেহা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আবু বকর। অভিযোগ অনুযায়ী, জমি কেনার জন্য নেওয়া ৩০ লাখ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি ভাড়াটে ব্যক্তি মো. সেলিমকে দিয়ে সালেহাকে হত্যা করান।
২০২৫ সালের ১৬ জুন কমলনগরের মতিরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে নুনু সর্দারের পরিত্যক্ত ভিটা থেকে সালেহা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্তে পুলিশ সেলিমকে গ্রেপ্তার করলে তিনি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
জবানবন্দিতে সেলিম দাবি করেন, সালেহা বেগমকে নির্জন স্থানে নিয়ে গলা টিপে অচেতন করার পর ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তিনি। পরে তার সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান।
তিনি আরও দাবি করেন, সালেহা বেগমের সঙ্গে আবু বকর ছিদ্দিকের গোপনে বিয়ে হয়েছিল। জমি কেনার কথা বলে সালেহার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নেওয়ার পর আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করায় তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে আবু বকর তাকে হত্যার দায়িত্ব দেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।
তদন্ত শেষে পুলিশ সেলিম ও আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সেলিম কারাগারে থাকলেও আবু বকর দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আমজাদ হোসাইন বলেন, চার্জশিটভুক্ত দ্বিতীয় আসামি আবু বকর ছিদ্দিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন। আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
ভুক্তভোগী সালেহা বেগমের ছেলে মো. শরীফ উদ্দিন ও মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, তাদের মাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা মামলার দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
এমএস/