দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীর এক বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ এবং পরে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী। আদালতের বিচারক শিরিন নিলা একমাত্র আসামি হিসেবে মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, প্রায় সাত বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন তিনি। এ সময় শহিদুল ইসলাম তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দেন। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গত ২৪ মার্চ পটুয়াখালী শহরে তার বোনের বাসায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে রাজি না হওয়ায় গত ১৮ মে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে একটি ক্লিনিকে নিয়ে তাকে ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে জ্ঞান ফিরলে তিনি জানতে পারেন, তার গর্ভপাত ঘটানো হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে শহরে এনে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত মো. শহিদুল ইসলাম সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি এবং পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, আদালতে মামলা হয়েছে। আদালতের বিচার শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আন নাহিয়ানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের আদেশের কপি এখনো হাতে পাননি। কপি পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএম/