দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নোয়াখালীর সদর উপজেলার শ্রীপুরে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সংঘটিত সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির ভাগের ৩৯ হাজার টাকা, একটি লোহার স্টিক এবং ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত ও ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন।
গ্রেপ্তাররা হলেন সদর উপজেলার কাদিরহানিফ ইউনিয়নের পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মো. ইব্রাহিমের ছেলে বাকের হোসেন ওরফে অনু (৩২), একই ইউনিয়নের দরবেশপুর গ্রামের আব্দুল মালেক মোস্তফার ছেলে কোরবান আলী ওরফে দুলাল (৪৮), অশ্বদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম নিরঞ্জনপুর এলাকার মজিবুল হকের ছেলে সাইদুল হক ওরফে আরিফ (২১) এবং তার ভাই মহিবুল ইসলাম আসিফ (২৫)।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ জুলাই রাত আনুমানিক ৩টার দিকে শ্রীপুর এলাকার ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন ফরহাদের বাড়ির কলাপসিবল গেটের তালা ও কাঠের দরজা ভেঙে আট সদস্যের একটি ডাকাত দল ঘরে প্রবেশ করে। পরে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চার জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, দুটি স্বর্ণের চেইন, একটি লকেট, একটি আংটি, একটি রুপার ব্রেসলেট, ছয়টি মোবাইল ফোন এবং নগদ সাড়ে ৭ লাখ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোশারফ হোসেন ফরহাদ সুধারাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে জেলা পুলিশের বিশেষ আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতদের শনাক্ত করে।
গত ২ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগরের খুলশী থানার লালখান বাজার এলাকার মতিঝর্ণা থেকে বাকের হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
একই দিন বিকেলে নোয়াখালীর দরবেশপুর এলাকা থেকে কোরবান আলী এবং পশ্চিম নিরঞ্জনপুর এলাকা থেকে সাইদুল হক ও মহিবুল ইসলাম আসিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় সাইদুল হকের কাছ থেকে এক হাজার টাকার দুটি নোট ও ৫০০ টাকার ৭৪টি নোটসহ মোট ৩৯ হাজার টাকা এবং একটি লোহার স্টিক উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া অর্থ ডাকাতির ঘটনায় তার ভাগে পাওয়া টাকা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানিয়েছেন, ডাকাত দলে মোট আটজন সদস্য ছিল। ডাকাতির আগে তারা সাইদুল হকের একটি প্রকল্পে জড়ো হয়ে পরিকল্পনা করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ঘটনাস্থলে গিয়ে ডাকাতি সংঘটিত করেন।
পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধেই ডাকাতি, অস্ত্র, চুরি ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে বাকের হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি, কোরবান আলীর বিরুদ্ধে ১২টি, সাইদুল হকের বিরুদ্ধে ১১টি এবং মহিবুল ইসলাম আসিফের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতদের ফেলে যাওয়া একটি কোরাবারি ও একটি ভাঙা তালাও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এমএস/