দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভোলার তজুমদ্দিনে একটি দাখিল মাদ্রাসায় মৃত শিক্ষকের এমপিও ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত মো. মহিউদ্দিন তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি। অভিযোগ অনুযায়ী, মৃত জুনিয়র শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের নাম, এমপিও ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে এ অনিয়ম করা হয়েছে। একই নাম হওয়ায় এ জালিয়াতি সম্ভব হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি জানার পর মো. ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. নুরুজ্জামান মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ মো. ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান মো. মহিউদ্দিন। তার মৃত্যুর পর পদটি শূন্য হয়ে যায়। পরে ২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী মো. মহিউদ্দিন একই প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরও তথ্য গোপন করে ২০০৬ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে মৃত শিক্ষকের এমপিও ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন। তিনি দাবি করেন, ‘হিসাব নম্বর এক হলেও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো বেতন তোলা হয়নি। নিয়োগের সময়ও কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি।’
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৬ সালের জুন মাসের এমপিও কপিতে মৃত শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের হিসাব নম্বর ব্যবহার করে বেতন-ভাতা উত্তোলনের তথ্য রয়েছে।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নুরুজ্জামান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। দীর্ঘদিনের এ জটিলতা নিরসনে লিখিতভাবে তদন্তের আবেদন করা হয়েছে।
তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এমএম/