দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শারীরিক সীমাবদ্ধতা কোনো প্রতিবন্ধকতা হতে পারে না এ সত্যকে আবারও নতুন করে প্রমাণ করলেন নীলা খাতুন। সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও মেধার জোরে অবশেষে সাফল্য ছুঁয়েছেন তিনি। আজ এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে সহকারী শিক্ষক পদে সরাসরি সরকারি চাকুরির নিয়োগপত্র গ্রহণ করেছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী নীলা।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চরবড়ধূল গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী নীলা মানবিক ও আন্তরিক সামাজিক উদ্যোগে শিক্ষকতার মতো এক মহান পেশায় আনুষ্ঠানিকভাবে পা রাখলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও নীলার মনের জোর ও শিক্ষার প্রতি অদম্য আগ্রহ ছিল শুরু থেকেই। তবে সামাজিক ও আর্থিক নানা সীমাবদ্ধতায় তার পথচলা ছিল কঠিন। অবশেষে তার এই সংগ্রাম ও মেধার স্বীকৃতি মিললো এক বিশেষ মানবিক ব্যবস্থার মাধ্যমে। নীলার এই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে মূল অবদান রেখেছেন কামারখন্দ উপজেলার কৃতি সন্তান ও উদীয়মান সামাজিক নেতৃত্ব আব্দুল্লাহ আল কায়েস। তার নিরলস প্রচেষ্টা ও আন্তরিক উদ্যোগে আজ স্বপ্নের দুয়ার উন্মোচিত হলো এই অদম্য নারীর।
নীলার এই শিক্ষকতা পাওয়ার বিষয়টি বাস্তবায়ন ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সরকারের দায়িত্বশীল শীর্ষ নেতৃত্ব। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হোসেন মাহমুদ টুকু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জেড এম জাহিদ হাসান এই দুই শীর্ষ মন্ত্রীর প্রত্যক্ষ মানবিক সহানুভূতি ও দ্রুত নির্দেশনায় দ্রুততম সময়ে নীলার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তাদের এই সময়োপযোগী ও স্পর্শকাতর পদক্ষেপ স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের কাছে বিপুল প্রশংসিত হয়েছে।
চাকরি পেয়ে আবেগাপ্লুত নীলা অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে জানান, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির নিয়োগ পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত, "আমার শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও আমি সবসময় শিক্ষক হয়ে সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। আজকের এই সুযোগ আমার জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার। বিদ্যুৎমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এবং আমাদের কায়েস ভাইয়ের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। আপনারা আমার জীবনের অনিশ্চয়তা দূর করে নতুন আলো ফুটিয়েছেন।
এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল কায়েস বলেন, "শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও নীলা আমাদের সমাজেরই অংশ। উপযুক্ত সুযোগ পেলে তারা যে নিজেদের ভাগ্য বদলের পাশাপাশি সমাজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সুশিক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে, নীলা তার উজ্জ্বল উদাহরণ। আমরা শুধু একটি প্রতিভাকে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি মাত্র। আল্লাহ যেন এ ধরনের মানবিক কাজে আমাদের সবসময় যুক্ত রাখেন।"
নীলার এই নতুন কর্মসংস্থানের সংবাদে স্থানীয় চরবড়ধূল গ্রামসহ পুরো কামারখন্দ উপজেলায় আনন্দের ঢেউ খেলা করছে। শিক্ষকতার এই সম্মানজনক সুযোগ পেয়ে নীলা এখন থেকে কেবল নিজের আত্মনির্ভরশীলতাই নিশ্চিত করবেন না, বরং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দেবেন নতুন আশার আলো।
কেএম