দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসছে তার অপরাধ সাম্রাজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য। অস্ত্রের উৎস, চাঁদাবাজির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা থেকে শুরু করে ভারতে পালানোর পরিকল্পনা-সবকিছু নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে মিলেছে, ভারতে ‘আজহার খান’ নামে তার জন্য তৈরি করা হয়েছিল ভুয়া আধার কার্ডও।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, গ্রেপ্তারের সময় ডেভিড ইমনের কাছ থেকে ভারতের একটি আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। সাজ্জাদ আলীর পরামর্শেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং সীমান্তের ওপারে তাকে গ্রহণ করার জন্য লোকজনও প্রস্তুত ছিল। উদ্ধার হওয়া আধার কার্ডে ‘আজহার খান’ নামে একটি পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে ভারতের নাগরিক পরিচয়পত্রের আদলে একটি ছবি, জন্মতারিখ ও পরিচয় নম্বর রয়েছে।
তিনি আরও জানান, তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন কার্ডটি আসল, নকল নাকি জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও প্রয়োজনীয় তথ্য বিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের জন্য কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালানো হয়। ডেভিড ইমন ও সন্ত্রাসী রায়হান নিজেদের মধ্যে এলাকা ভাগ করে চাঁদাবাজি পরিচালনা করতেন।
ডেভিড ইমন চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় এবং রায়হান চট্টগ্রাম জেলা এলাকায় চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করতেন। একজনের এলাকায় অন্যজন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন না। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা, নজরদারির ভিত্তিতে যশোরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ফটিকছড়ির উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মোবারক হোসেন ইমন প্রকাশ ডেভিড ইমন (২৫), কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের মো. শামীম (২৮), ঢাকার শ্যামপুরের আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫) এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির মো. সাফায়েত হোসেন (২৪)।
ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও চট্টগ্রাম মহানগরের একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়েও তদন্ত চলছে।
তবে ইউপিডিএফের কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ, হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার এবং ভারতে অবস্থানরত সাজ্জাদ আলীর কাছে অর্থ পাঠানোর অভিযোগগুলো এখনও তদন্তাধীন।
কেএম