দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীর বাউফলে সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে একটি হিন্দু পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় নাম উল্লেখ করা দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাউফল থানায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য রতন মণ্ডল মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখের পাশাপাশি আরও পাঁচ-ছয়জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে।
নাম উল্লেখ করা দুই আসামি হলেন এনামুল হক এনা (৩৫), যিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) উপকূলীয় প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত এবং মো. রিয়াজ (৩৭), যিনি দৈনিক জাগো জনতা–এর বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি।
মামলার এজাহার, স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন বছরেরও বেশি আগে একটি মুসলিম পরিবারের এক তরুণী প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে এক হিন্দু যুবককে বিয়ে করেন। শুরুতে এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ থাকলেও পরে তা মিটে যায়। বর্তমানে ওই দম্পতির আট মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত রোববার বিকেলে সাংবাদিক ও ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয়ে এনামুল হক, মো. রিয়াজসহ আরও কয়েকজন ওই পরিবারের বাড়িতে গিয়ে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
মামলার বাদী রতন মণ্ডলের দাবি, এনামুল হক নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে বলেন, মুসলিম নারীকে অবৈধভাবে ঘরে রাখা হয়েছে। এ থেকে রেহাই পেতে তিন লাখ টাকা দিতে হবে। পরে পরিবারের সদস্যরা অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের এক দোকানির কাছ থেকে ধার করে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং পরে আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলে অভিযুক্তরা চলে যান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এনামুল হক এনা। তিনি বলেন, একজন মুসলিম নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একটি হিন্দু পরিবারে আটকে রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি আরও তিনজনের সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহে সেখানে গিয়েছিলেন। চাঁদা দাবি বা অর্থ নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে চাঁদা দাবি ও অর্থ গ্রহণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
এমএস/