দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজধানীর গুলিস্তানে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির প্রতিবাদে আয়োজিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি বিক্ষোভ মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির নেতা–কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াত। হামলায় ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দলটি দাবি করেছে।
শনিবার (৭ জুলাই) বিকেল পাঁচটার দিকে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া ফ্লাইওভারের নিচে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানান জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন।
আবদুস সাত্তার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিএনপির সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজি অব্যাহত রেখেছে। কিছুদিন আগে তারা নগর প্লাজা মার্কেট তালা লাগিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেয়। সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরা ভাঙচুর করে, কম্পিউটার নিয়ে যায়। তখন সাধারণ ব্যবসায়ীদের অনুরোধে জামায়াতের স্থানীয় নেতারা তাদের পাশে দাঁড়ান।
হামলার বর্ণনা দিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, শনিবার বিকেলে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির প্রতিবাদে ফুলবাড়িয়ার বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেন স্থানীয় জামায়াতের নেতা–কর্মীরা। সেখানে ব্যবসায়ীরা জড়ো হলে বিএনপির নেতাকর্মীরা ছুরি, রড, লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা করেন। এতে ১৫ থেকে ২০ জন ব্যবসায়ী ও জামায়াতের নেতাকর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ছুরিকাঘাতও করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুলিস্তানের সংঘর্ষের ঘটনায় মো. কবির আহমেদ (৪৫) নামে এক জামায়াত নেতা ছুরিকাহত হয়েছেন। মোবাইল যন্ত্রাংশের এই ব্যবসায়ী গুলিস্তান ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
হামলার বিষয়ে বংশাল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মোহাম্মদ মামুন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুলবাড়িয়া ক্লাবে বসে ছিলেন। আওয়ামী লীগের মিছিল ঠেকাতে প্রায় প্রতিদিনই তারা মিছিল করেন। আজকে হঠাৎ জামায়াত ট্রেড সেন্টারের ভেতর থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করেছে বলে শুনেছি। পরে দুই গ্রুপ মুখোমুখি হয়ে গেছে। তাদের সঙ্গে তো আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। গায়ে পড়ে এসে তো তারা ঝামেলা করতে পারে না। যদিও আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।
মার্কেট দখলের বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির এই নেতা বলেন, শ্রম অধিদপ্তর থেকে সরকারিভাবে মার্কেট পরিচালনায় পাঁচজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের দায়িত্ব পালন করতে দেয় না। পরে যুবদল নেতা রনজু দলীয় লোকজন নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পাঁচজনকে বসিয়ে দিয়েছেন, পুলিশও ছিল। সরকারি দল হিসেবে সরকারি আদেশ মানা তো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এ ছাড়া অন্য কিছু নয়। কেউ মার্কেট দখল করতে যায়নি।
হামলার বিষয়ে শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, স্থানীয় দোকানদারদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। বড় কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
কে