দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও দল থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের মুখে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের গোটাঘাটা মসজিদে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে আলোচিত বিয়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ঘটনাটি "অসামাজিক হয়েছে, তবে অনৈতিক নয়"। এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ওই অনুষ্ঠানে আব্দুল খালেক বলেন, সংশ্লিষ্ট নারী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে থাকতে চেয়েছিলেন এবং তার জোরালো ইচ্ছার কারণেই পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রে এমন কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণেই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে এবং তাঁর সংসদ সদস্য পদও থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের ভুল এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তির ভুলের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। একজন ইমামের ভুল যেমন সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পায়, তেমনি একজন জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য।
তবে বক্তব্যটি প্রকাশের পর শুক্রবার রাতে এক ভিডিও বার্তা ও লিখিত প্রতিবাদে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন আব্দুল খালেক। তিনি দাবি করেন, তাঁর বক্তব্য খণ্ডিত ও প্রসঙ্গ বিচ্ছিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে, ফলে বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ বিকৃত হয়েছে।
প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে তিনি কোনো ব্যক্তিগত মতামত দেননি। বরং আলোচিত ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই নারী নিজে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেটিই তিনি তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু কিছু গণমাধ্যমে এমনভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে মনে হচ্ছে সেটি তাঁর ব্যক্তিগত মতামত।
আব্দুল খালেকের ভাষ্য, তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল নেতৃত্বের নৈতিক দায়বদ্ধতা। নেতৃত্বের পর্যায়ে থাকা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের উচিত তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা এবং নৈতিকতার প্রশ্নে কোনো আপস না করা।
তিনি অভিযোগ করেন, বক্তব্যের একটি অংশ বিচ্ছিন্নভাবে প্রচার করে তাঁকে একটি বিতর্কিত ঘটনার সমর্থক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। যেকোনো বক্তব্য বা তথ্য প্রচারের আগে তার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট যাচাই করার আহ্বানও জানান তিনি।
শিবপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা শাহাদাত হোসাইন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেন এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদ হাসানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জে আই