দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাবনার সাঁথিয়ায় জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ আব্দুল্লাহর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় মসজিদে জামায়াতের নেতাকর্মী ও মুসল্লিদের ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের ইমাম হোসাইন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
ব্যারিস্টার মোমেন দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী দায়িত্বের বাইরে গিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের দায় তাকেই নিতে হবে, প্রয়োজন হলে এর দায়ভার প্রধানমন্ত্রীকেও নিতে হবে। তার ভাষ্য, "আজকে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র ছিল, জনগণ তা প্রতিহত করেছে।"
তিনি সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমানকে "ফ্যাসিবাদের দোসর" আখ্যা দিয়ে তার প্রত্যাহারের দাবি জানান। ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, হামলার শিকার ব্যক্তিরা মামলা করতে থানায় গেলেও তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং থানার গেট থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সংসদ সদস্যের অভিযোগ, জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে বিএনপি পরিকল্পিতভাবে লোকজন জড়ো করেছিল এবং পুলিশ তাদের হামলার সুযোগ করে দেয়। এ সময় তার সমর্থকদের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, তাকে সুষ্ঠুভাবে জুমার নামাজ পরিচালনা করতে দেওয়া হয়নি।
বিএনপির সমালোচনা করে ব্যারিস্টার মোমেন বলেন, রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়ে দলটি সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, "ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও তার ভূত এখনো রয়ে গেছে।"
নিজেকে মসজিদে ইমামতি করতে বাধা দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণ তাকে ভালোবেসে ইমামতি করতে বলেছে এবং এজন্য কোনো রাজনৈতিক দলের অনুমতির প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিকেলে ঘটে যাওয়া ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত নাটক সাজানো হচ্ছে এবং ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের দলের কেউ নন।
সংবাদ সম্মেলনে সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মোখলেসুর রহমান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক আনিছুর রহমান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল মানিক, পৌর আমির হাফেজ আব্দুল গফুর, জেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি তাইজুল ইসলামসহ জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার জুমার খুতবার আগে সাঁথিয়ার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির প্রয়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ও পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন নামাজ পরিচালনা করতে গেলে উপস্থিত বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ আপত্তি জানান। পরে মসজিদের ভেতরে জামায়াত-শিবির ও এনসিপির কর্মীদের সঙ্গে বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর সাঁথিয়া এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, পুলিশ বা বিএনপির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
জে আই