দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাগুরা-কৈখালী বিলে একটি মৎস্য ঘের থেকে সুমন (৩৫) নামে এক মাইক্রোবাস চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে বিদ্যুতের কাটা তার, লোহা কাটার দুটি ব্লেড, একটি সিমবিহীন বাটন মোবাইল ও অন্যান্য আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে মাগুরা-কৈখালী বিলের কেসমত আলীর মৎস্য ঘের থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত সুমন কৈখালী গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে। তিনি পেশায় মাইক্রোবাস চালক ছিলেন।
স্থানীয় লাবসা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর নেতা হাফেজ মাওলানা মনোয়ার হোসাইন মোমিন জানান, সুমন প্রায় চার বছর ধরে তার ব্যবহৃত মাইক্রোবাস চালাতেন। অসুস্থতার কারণে চার দিন আগে তিনি ছুটি নিয়ে বাড়িতে ছিলেন। সোমবার সকালে তিনি খবর পান, সুমনের মরদেহ একটি মৎস্য ঘেরে পড়ে রয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহা. মাসুদুর রহমান জানান, সোমবার সকাল ৬টার দিকে মৎস্য ঘেরের মালিক কেসমত আলী ঘেরের টঙের বাতি বন্ধ করতে গিয়ে পানির মধ্যে এক ব্যক্তির বিবস্ত্র মরদেহ দেখতে পান। পরে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসীকে খবর দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়রা মরদেহটি সুমনের বলে শনাক্ত করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে লোহা কাটার দুটি ব্লেড, একটি সিমবিহীন বাটন মোবাইল, একটি সিগারেটের প্যাকেট এবং পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ হাজার ভোল্ট লাইনের কাটা তার উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতের বোন রেশমা খাতুন জানান, রোববার রাতে খাবার খাওয়ার পর একটি ফোনকল পেয়ে সুমন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন, তিনি বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে গেছেন। ভোরে তার কক্ষ খোলা দেখে তাকে না পেয়ে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে একটি মৎস্য ঘেরে মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা সুমনের মরদেহ শনাক্ত করেন। তার ব্যবহৃত লুঙ্গি, গামছা ও মোবাইল ফোন ঘটনাস্থলের পাশে পড়ে ছিল বলে পরিবারের দাবি।
নিহতের বাবা আব্দুল হামিদ অভিযোগ করেন, সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে সুমনকে হত্যা করে মরদেহ ঘেরে ফেলে রেখে যেতে পারে।
ওসি মাসুদুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে।
এমএম/