দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার রাতে ভিডিওটি বিভিন্ন সামাজিক প্লাটফর্মে ভাইরাল হওয়ার পর এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়। বিষয়টি হয়ে পড়ে টক অব দ্যা কান্ট্রি। জামায়াত এমপির ওই ভাইরাল ভিডিও দলীয় নেতাকর্মীরা এআই বলা চালালেও সকালে এমপি লিখলেন ওই মেয়েটাকে তিনি বিয়ে করেছেন মেয়েটি তার ছোট বৌ। যদিও এলাকার সাধারণ মানুষ বলছে এ কথাটি খোঁজ নিলে দেখা যাবে মিথ্যা। যা এ মুহুর্তে রক্ষা পেতে তিনি এসব বলছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একজন নারীসহ একজন ব্যক্তিকে একটি কক্ষে অবস্থান করতে দেখা যায়। ভিডিওটির কিছু অংশে ওই ব্যক্তিকে ফোনে কথা বলতে এবং অন্য কিছু অংশে অন্তরঙ্গ হতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটি আদৌ আসল নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য বা স্বাধীন যাচাই সামনে আসেনি। ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন দাবি করা হচ্ছে। কেউ ভিডিওটিকে বাস্তব বলে দাবি করছেন, আবার কেউ এটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বা বিকৃত করা হতে পারে বলে মন্তব্য করছেন। তবে এসব দাবির কোনোটি এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কোনপক্ষ নিশ্চিত করেনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্যও দেয়নি।
ভিডিওটির সত্যতা এখনো যাচাই হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত বা ফরেনসিক যাচাই ছাড়া ভিডিওটির সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও প্রসঙ্গে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বক্তব্য হুবহু: গত ১৩ জুলাই, ২০২৬ ইং তারিখে আমার প্রথমা ও দ্বিতীয় স্ত্রী, যথাক্রমে মোছা. মাকছুদা বেগম ও মোছা. মরিয়াম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যাই। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি।
আমরা উক্ত অফিসে অবস্থানকালে যোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫/৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে ১ লক্ষ টাকা আদায় করে। আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়াকৃত গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এসময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
পরবর্তীতে, হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
প্রকৃতপক্ষে, গত ১৭ জুন, ২০২৬ তারিখে পারিবারিকভাবে এবং আমার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়াম বেগমের সঙ্গে তার পিতা মোঃ মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। ফলে আমাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই।
যারা আমাদের সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান জানান, সারারাত সংসদ সদস্যের দলীয় লোকজন সারারাত প্রচার করেছে এটি এআই দিয়ে নির্মিত। সকালে দেখা গেছে এআই হয়ে গেলো ছোটবউ। এটি হাস্যকর। আর নৈতিকতার চুড়ান্ত অবক্ষয়।
কেএম