দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

স্বাদ, গুণগত মান ও মিষ্টি সুগন্ধের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় আলাদা পরিচিতি রয়েছে মাগুরার কাঁঠালের। জেলার শালিখা উপজেলার সীমাখালি বাজারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বড় কাঁঠালের পাইকারি বাজার। এখান থেকে প্রতি মৌসুমে দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি জেলায় কাঁঠাল সরবরাহ করা হয়। এ বছর বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় খুশি কৃষক, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।
গাছে গাছে ঝুলছে পাকা কাঁঠাল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে তার মিষ্টি সুগন্ধ। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এখন মাগুরার বিভিন্ন কাঁঠাল বাগানে। মাগুরা শালিখা উপজেলার সীমাখালি বাজারে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে কাঁঠাল বেচাকেনা। শুধু মাগুরা নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকেও কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কাঁঠাল এই বাজারে নিয়ে আসেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকাররা এখান থেকে কাঁঠাল কিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি জেলায় পাঠিয়ে দেন।
মাগুরা জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ৭৫২ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৯৪ মেট্রিক টন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬৭ কোটি টাকা। বাগান থেকেই ব্যবসায়ীরা কাঁঠাল সংগ্রহ করায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। ফলে কাঁঠাল চাষ এখন অনেক কৃষকের জন্য লাভজনক বাণিজ্যিক ফসলে পরিণত হয়েছে।
কাঁঠাল ব্যবসায়ী আকরাম মোল্লা বলেন, আমরা সীমাখালি বাজার থেকে কাঁঠাল কিনে দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি জেলায় পাঠাই। এখানে গভীর রাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলে। এই ব্যবসায় ভালো লাভ হয়, তাই প্রতি বছরই আমরা এখানে আসি।
কাঁঠাল চাষি মো. হাসেম বলেন, মাগুরার কাঁঠালের স্বাদ ও মান অনেক ভালো। এবার ফলনও খুব ভালো হয়েছে। কাঁঠাল চাষ করে আমরা ভালো লাভ করছি। এটি একটি লাভজনক বাণিজ্যিক ফসল, তাই আরও বেশি মানুষ কাঁঠাল চাষে এগিয়ে আসা উচিত।
বাগান মালিক বেলায়েত শেখ বলেন, কাঁঠাল চাষে খরচ তুলনামূলক কম, কিন্তু লাভ ভালো। ভালো দাম পাওয়ায় আমাদের সংসারের অবস্থাও আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে।
এক সময় বাড়ির আঙিনার ফল হিসেবে পরিচিত কাঁঠাল এখন মাগুরার কৃষকদের অন্যতম লাভজনক অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। জেলার শালিখার সীমাখালি বাজারকে কেন্দ্র করে দেশের ৩০ থেকে ৩৫টি জেলায় প্রতিদিন কাঁঠাল সরবরাহ হচ্ছে। ৭৫২ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত প্রায় ৩৩ হাজার ৭৯৪ মেট্রিক টন কাঁঠালের সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৬৭ কোটি টাকা। তাই কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের আশা, ন্যায্যমূল্য ও রপ্তানির সুযোগ আরও বাড়লে মাগুরার কাঁঠাল দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (উপ-পরিচালক) মো. তাইজুল ইসলাম বলেন, এ বছর কাঁঠালের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। মাগুরা সদর উপজেলায় ১৭২ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষ হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে রপ্তানির সুযোগ বাড়ানো গেলে কাঁঠাল দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
কেএম