দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যৌতুক, মাদক, জুয়া, বাল্যবিয়ে ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও যাত্রা শুরু করেছে সামাজিক সংগঠন ‘আলোকিত লালমনিরহাট’। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটির পুনর্যাত্রা উপলক্ষে গণজাগরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে লালমনিরহাট শহরের এমটি হোসেন ইনস্টিটিউট মাঠে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন, নির্যাতন ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেশ গঠনের পাশাপাশি সমাজকে অপরাধমুক্ত করার সময় এসেছে।
তিনি বলেন, ‘আসাদুল হাবিব দুলুর নেতৃত্বে আলোকিত লালমনিরহাট গড়ার এই উদ্যোগ গোটা দেশের জন্য উদাহরণ হতে পারে। মাদকের আগ্রাসনে যুবসমাজ ধ্বংসের পথে। জনগণকে সম্পৃক্ত করেই এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, মানুষকে মাদক, যৌতুক ও জুয়াকে ‘না’ বলতে হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিস্তাপাড়ের মানুষের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক ও ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর সভাপতি মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা আর কেবল স্বপ্ন নয়, এটি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। এর মাধ্যমে তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, মাদক, জুয়া, যৌতুক ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ইতোমধ্যে জেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য হাসান রাজিব প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হক।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আগের রাতে সংগঠনটির উদ্যোগে সাতটি সম্পূর্ণ যৌতুকমুক্ত বিয়ের আয়োজন করা হয়, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
পরে তিন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। মাদক ও যৌতুকবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিশন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
এমএস/