দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তা নদীতে পানি বেড়ে লালমনিরহাটের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, রোববার (২৯ জুন) রাতে ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সোমবার তা বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ভাটি অঞ্চলে পানির টান কমেনি বলে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।
গতকাল থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পায়। এতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ও খুনিয়াগাছ, হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ও গড্ডিমারী এবং আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচাসহ বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক ও চলতি মৌসুমের বাদাম-সবজিসহ বিভিন্ন ফসল। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। অনেক এলাকায় রান্নাবান্না বন্ধ রয়েছে।
হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী চরের বাসিন্দা ফজলুল হক বলেন, রাতের অন্ধকারে হঠাৎ ঘরে পানি ঢুকে গেছে। চুলা ভিজে যাওয়ায় রান্নাবান্না বন্ধ। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা এলাকার কৃষক সোলেমান মিয়া বলেন, চরের বাদাম ও সবজির খেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বাড়িঘরে পানি উঠছে এবং যাতায়াতের সড়কও ডুবে গেছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার রায় জানান, উজানের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি ওঠানামা করছে। ভাঙন রোধে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। দুর্গত এলাকার জন্য ২২০ মেট্রিক টন চাল ও পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এমএম/