দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টানা ভারী বৃষ্টির দুই দিন পেরিয়ে গেলেও মাগুরা শহরের বিভিন্ন এলাকার সড়ক থেকে পানি না নামায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। অতীতের মতো এবারও ভারী বর্ষণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের পেছনের কলেজপাড়া এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায়, এক দিনের টানা বর্ষণে সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দুই দিন পার হলেও অনেক স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। কোথাও কোথাও ড্রেন উপচে পানি রাস্তায় উঠে এসেছে। অনেক এলাকায় বসতবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি রিকশাচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ও কমে গেছে।
কলেজছাত্রী মোছা. স্নিগ্ধ বলেন, "বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় পানি জমে যায়। বাড়ির ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে, রাস্তায় হাঁটুসমান পানি থাকায় চলাচল করা যায় না। এলাকায় পর্যাপ্ত ড্রেন নেই। আমরা দ্রুত স্থায়ী সমাধান চাই।"
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আজাদ বলেন, "ঘরের ভেতরে ও রাস্তায় পানি জমে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পানির নিচে রাস্তার গর্ত দেখা যায় না, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন।"
কলেজপাড়ার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম রিংকু বলেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের সংকটের কারণে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বিশেষ করে শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার কারণে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আবার ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।
এ বিষয়ে মাগুরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান বারী বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে পৌর এলাকায় ১০ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। চলতি অর্থবছরে আরও ৫ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণকাজ চলছে। এছাড়া তিনটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় আরও ২১ কিলোমিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হলে শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকাংশে সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এমএম/