দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে বজ্রপাতের ঘটনায় মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুর মৃত্যুও বেড়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও খোলা মাঠে বজ্রঝড়ের সময় গরু, মহিষ ও ছাগল মারা যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষক ও খামারিরা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৩ জুন জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় বজ্রপাতে দুটি গরুর মৃত্যু হয়। উপজেলার কেদার ইউনিয়নের পশ্চিম বিষ্ণুপুর গ্রামের আনছার আলীর একটি গরু এবং কালীগঞ্জ ইউনিয়নের কুমেদপুর বেগুনীপাড়া গ্রামের সন্তোষ কাপালীর একটি গাভী বজ্রপাতে মারা যায়।
এ ছাড়া কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের আলোর চর এলাকায় একটি গরু, রৌমারী উপজেলার খেতাইমারী গ্রামে একটি মহিষ এবং উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে আরও একটি গবাদিপশু বজ্রপাতে মারা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় মাসে জেলায় অন্তত ১২ থেকে ১৩টি গরু ও মহিষ বজ্রপাতের শিকার হয়েছে। এতে কয়েক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামে বর্তমানে প্রায় ৯ লাখ ২৩ হাজার গরু, ১১ হাজার মহিষ, ৭ লাখ ৪৫ হাজার ছাগল, ১ লাখ ৪৯ হাজার ভেড়া এবং ৩ হাজার ২১৬টি ঘোড়া রয়েছে। চরাঞ্চলে গবাদিপশুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এসব এলাকায় বজ্রপাতে প্রাণী মৃত্যুর ঘটনাও তুলনামূলক বেশি।
কালীগঞ্জ ইউনিয়নের কুমেদপুর বেগুনীপাড়া গ্রামের কৃষক সন্তোষ কাপালী বলেন, বজ্রপাতে আমার একটি গাভী মারা গেছে। গাভীটির পেটে বাচ্চাও ছিল। এর দাম প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। এতে আমি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।
উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা সামছুল আলম বলেন, হঠাৎ বজ্রপাতে আমার একটি গরু মারা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে লালন-পালন করেছিলাম। ভালো দামে বিক্রি করার আশা ছিল, কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল।
পরিবেশবিদ ও কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মির্জা নাসির উদ্দিন বলেন, প্রতিবছর বজ্রপাতে শুধু মানুষ নয়, বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু ও বন্যপ্রাণী মারা যায়। তবে আগাম সতর্কতা ও সচেতনতা বাড়ানো গেলে এ ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
তার পরামর্শ, বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়া গেলে বা মেঘের গর্জন শোনা মাত্র গবাদিপশুকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। খোলা মাঠ, উঁচু স্থান কিংবা বড় গাছের নিচে পশু বেঁধে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ বজ্রপাত সাধারণত উঁচু বস্তুর ওপর আঘাত হানে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গবাদিপশু রক্ষায় গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম প্রয়োজন। ইউনিয়ন পরিষদ, হাটবাজার, সমবায় সমিতি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রচার চালানোর পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা যেতে পারে।
তারা আরও বলেন, বজ্রপাতের সময় ধাতব শিকলের পরিবর্তে পাটের দড়ি বা প্লাস্টিকের রশি ব্যবহার তুলনামূলক নিরাপদ। একই সঙ্গে গোয়ালঘর ও খামারে বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন এবং সঠিক আর্থিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, বজ্রপাতে ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ও কৃষকদের সহায়তায় সরকার অনুদানের উদ্যোগ নিচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানালে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তরা সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
জে আই