দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম মূলহোতা হিসেবে পরিচিত টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী কচ্ছপিয়া এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দুল হক প্রকাশ লেংগাকে আটক করেছে রামু থানা পুলিশ।
রোববার (৭ জুন) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের কমুনিয়া এলাকায় তার দ্বিতীয় বাড়িতে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় পুরো বাড়ি ঘিরে রাখে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় ছৈয়দুল হকের বাড়িতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বাড়ির ভেতর থেকে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার সংক্রান্ত চুক্তিপত্র, একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, আটক ছৈয়দুল হকের বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মানবপাচার মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি অপরাধী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন, ছৈয়দুল হক দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত। মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভনে অর্থ আদায়, হত্যা ও গুমের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আটকের পর তাকে রামু থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ছৈয়দুল হক শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও এলাকায় তার একাধিক বাড়ি ও সম্পদের মালিকানা এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমেও মানবপাচার কার্যক্রম পরিচালিত হতো এবং বিভিন্ন সময় বিপুল অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে।
সম্প্রতি একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার মালয়েশিয়ায় পাঠানোর আশ্বাসে প্রতারণা ও দুর্ভোগের অভিযোগ তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, তার বাড়িতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির যাতায়াত ছিল। তবে এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান মানবপাচারবিরোধী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এমএস/