দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) আপা ডাকায় অভিজাত মিষ্টির শো-রুম কর্মচারিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে মিষ্টির শো-রুমে জরিমানা করায় ওই কর্মচারিকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে ওই কর্মচারীর চাকরি বহাল হলেও তাকে শো-রুম থেকে কারখানায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
জানা যায়, ঈদুল আজহার আগে পার্শ্ববর্তী বালাগঞ্জর ইউএনও তাজপুর বাজারস্থ বনফুল শো-রুম থেকে মিষ্টি কিনে নেন| বাসায় নেওয়ার পর দেখেন মিষ্টিগুলো পুরাতন। এরপর বালাগঞ্জ ইউএনও বিষয়টি ওসমানীনগর ইউএনওকে জানান। ঈদের পরদিন শুক্রবার বিকালে ওসমানীনগর ইউএনও একা সাধারণ ক্রেতা হিসেবে তাজপুর বাজার বনফুল শো-রুমে আসেন। এসময় তিনি কর্মচারী মান্নানকে জিজ্ঞেস করেন মিষ্টিগুলো কি নতুন? কর্মচারি মান্নান ক্রেতা হিসেবে (ইউএনকে) জানান, আপা ড্রাই মিষ্টিগুলো ঈদের আগের আর নরমাল মিষ্টিগুলো আজকের। ইউএনও তখন কর্মচারি মান্নানকে বলেন, তোমরা মানুষকে বাজে মিষ্টি দাও, আমার কাছে অভিযোগ আছে। তখন কর্মচারি মান্নান বিষয়টি ম্যানেজারকে জানাতে বলেন।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক ইউএনও উত্তেজিত হয়ে বলেন, এই তুমি বেয়াদবি করছ, চেনো আমি কে? আমি ইউএনও, আমি তোমাকে জেলে দেবো। একথা শুনে কর্মচারি মান্নান ভয়ে শো-রুম থেকে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে শো-রুমের প্রধান ম্যানেজার সুহেল বড়ুয়া এসে বিষয়টি জেনে ইউএনওকে শান্ত করেন এবং কর্মচারি মান্নানকে আনতে বাসায় লোক পাঠান। বাসায় গিয়ে দেখা যায় মান্নান মসজিদে নামাজে চলে গেছেন। ম্যানেজার তখন ওই লোককে মসজিদে পাঠান। মসজিদে গিয়ে মান্নান নামাজে দাঁড়িয়েছেন দেখে ম্যানেজারকে জানালে নামাজ শেষ হলে তাকে নিয়ে আসতে বলা হয়। এসময় সহকারী ম্যানেজার ক্যাশ টেবিলে চেয়ারে বসে কথা বলছিলেন। তখন ইউএনও রেগে প্রধান ম্যানেজারকে বলেন, এইটাও বেয়াদব দেখেন চেয়ারে বসে কথা বলছে।
এরপর ম্যানেজার ইউএনওকে সরি বলে ক্ষমা চান। ততক্ষণে কর্মচারি মান্নানকে নিয়ে আসা হয়। ম্যানেজার সুহেল মান্নানকে ইউএনওর কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন। মান্নান তখন ‘আপা ভুল হয়েছে, আমাকে মাফ করে দেন’ বললে ইউএনও রেগে পুলিশ ডেকে মান্নানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। বিষয়টি বনফুল কর্তৃপক্ষ জেনে মান্নানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন।
গত ১ জুন দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা উপজেলা পরিষদে আসলে কর্মচারি মান্নান বিষয়টি নিয়ে এমপি লুনার দ্বারস্থ হন। এমপি লুনা তার চাকরি বহাল রাখতে স্থানীয় বিএনপির দুই নেতাকে বনফুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দায়িত্ব দেন। বর্তমানে মান্নানকে সিলেট নগরীর খাদিম বিসিক শিল্প এলাকায় বনফুলের কারখানায় বদলি করা হয়েছে।
বনফুল শো-রুম কর্মচারি মান্নান বলেন, তিনি সাধারণ ক্রেতা হিসেবে শো-রুমে এসে মিষ্টিগুলো কি বাসি এমন প্রশ্ন করেন। আমি তখন বলি, ড্রাই মিষ্টি আগের ও নরমাল মিষ্টি আজকের। তখন তিনি বলেন, বালাগঞ্জ ইউএনও অভিযোগ করেছেন, তোমরা বাসি মিষ্টি দিয়েছ। তাছাড়া আমার কাছে আরো অভিযোগ রয়েছে। তখন আমি ক্যাশে ম্যানেজার স্যারের সঙ্গে কথা বলতে বলি। এতে ক্ষেপে গিয়ে তিনি বড় অফিসার বলে আমাকে জেল দেবেন বলে। আমি তখন ভয়ে পালিয়ে যাই। এরপর ম্যানেজার স্যার আমাকে ডেকে এনে তার কাছে মাফ চাইতে বললে আপা আমাকে ক্ষমা করে দেন বলি। এতে তিনি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ ডেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। আমি ৩২ বছর ধরে বনফুলে চাকরি করছি, আমার কোনো বাজে রেকর্ড নেই। এটা আমার ওপর অবিচার করা হয়েছে। আমি এখন সিলেট কারখানায় আছি।
বনফুলের তাজপুর বাজার শো-রুম ব্যবস্থাপক সুহেল বড়ুয়া বলেন, দোকান কর্মচারি মান্নান ইউএনও ম্যাডামকে না চিনে গুরুত্ব দেয়নি। তাই তাকে ক্ষমা চাইতে বলি। সে তখন আপা ক্ষমা করে দেন বলে ফেলে। এতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আপনারা বাসি মিষ্টি বিক্রি করেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ড্রাই মিষ্টি একদুই দিন আগের থাকে, নরমাল মিষ্টি নতুনই থাকে। কখনো গরমে কোনো মাল নষ্ট হলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে চেক করে আউট করে দেই।
ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসটি এম ফখর উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগী ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার কাছে এসেছিলেন। এমপি উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনেছেন। তবে ঘটনার বিস্তারিত জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করলে ভালো হবে।
বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, আমি অথবা আমার কোনো স্টাফ হয়তো মিষ্টি কিনতে পারি। ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমার কলিগ। তিনি আপা ডাকার জন্য জরিমানা করতে পারেন না। হয়তো ক্রেতা হিসেবে গিয়ে ওই আউটলেটে কোনো সমস্যা দেখতে পেয়ে তিনি জরিমানা করেছেন। আর বিচারকার্য পরিচালনার সময় পক্ষপাত এড়াতে ইউএনও মহোদয় বা যাস্ট ইউএনও বলাই ভালো। ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশার সরকারি মোবাইলে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
কে