দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঈদুল আজহার দ্বিতীয়দিনে পর্যটকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভাসছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। পাশাপাশি আগত পর্যটকের পদচারণা মুখরিত জেলার বিনোদন কেন্দ্রগুলো। এ নিয়ে হোটেল-মোটেল সহ পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা ছুটির ঈদের দ্বিতীয়দিনে ৩০ শতাংশের মত হোটেল কক্ষ ভাড়া হয়েছে। এতে অন্তত ৪০ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে মানুষ ব্যস্ত থাকায় ঈদের তৃতীয়দিন থেকে আশানুরূপ পর্যটক সমাগমের আশা তাদের। এদিকে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা ও হয়রানি রোধে সার্বিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছেন, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও লাইফ গার্ডের সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই দেশের নানা প্রান্তের ছুটে আসা ভ্রমণপিপাসুর পদচারণায় মুখরিত লাবণী থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকার সমুদ্র সৈকত। ইট-পাথরের কোলাহল ছেড়ে যান্ত্রিকজীবনের অবসাদ কাটা ছুটে আসা এসব মানুষের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে সৈকতশহর। আগত পর্যটকদের কেউ বিচবাইকে, কেউ ঘোড়ায়; আবার কেউ জেটস্কিতে চড়ে বিনোদনে মেতেছেন। কেউ কেউ বিস্তৃত বালিয়াড়িতে ঘুরে উপভোগ করছে সাগরে অপরূপ সৌন্দর্য্য। অনেকে মোবাইল ও ক্যামেরায় ছবি তুলে স্মৃতি ধারণের পাশাপাশি কেউ কেউ সৈকতের কিটকটে বসে উপভোগ করছেন সাগরের হিমেল হাওয়ার পরশ। তবে ঘুরতে আসা পর্যটকের অধিকাংশই মেতেছেন সাগরের লোনাজলে অবসাদ অবগাহনে।
পর্যটকরা বলছেন, ঈদ কিংবা টানা ছুটি পেলেই তারা ছুটে আসেন কক্সবাজার। ক্লান্ত দেহমনের অবসাদ কাটানো এবং নির্বিঘ্নে ভ্রমণের জন্য কক্সবাজারের মত দ্বিতীয়টি আর নেই।
কক্সবাজারের হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, ‘ঈদুল আজহার প্রথম ও দ্বিতীয়দিনে মানুষ কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পর্যটকের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকে। ইতিমধ্যে পর্যটকরা কক্সবাজারমুখি হতে শুরু করেছে। আশা করছি, আগামীকাল থেকে কাঙ্খিত সংখ্যক পর্যটক সমাগম হবে।’
সী সেইফ লাইফ গার্ড সংস্থা, সিনিয়র লাইফ গার্ড জয়নাল আবেদীন জানান, এখন বর্ষা মৌসুম হওয়ায় সাগর স্বাভাবিক সময়ের চাইতে কিছুটা উত্তাল রয়েছে। এতে গোসলরত পর্যটকদের জন্য কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। এ নিয়ে নির্দেশনা মেনে পর্যটকদের গোসলে নামার পরামর্শ দেন তিনি।
ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা ও হয়রানি রোধে সার্বিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই ) মনিরুল ইসলাম।
কক্সবাজারে সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি অপরূপ সৌন্দর্য্যের মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি ঝর্ণা, ইনানী ও পাটুয়ারটেকের পাথুরে সৈকত, ডুলাহাজার বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক, রামুর বৌদ্ধ বিহার, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির এবং শহরের বার্মিজ মার্কেট সহ জেলার বিনোদন কেন্দ্রগুলো আগত পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে।
কেএম