দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শেরপুরের শ্রীবরদীতে এক হাফেজিয়া মাদরাসা প্রধানের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়নের তিনানী ভেলুয়া মোড়ে দারুল ইহসান নুরানি হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার বড় হুজুর মুফতী মাহফুজুর রহমান রুবেলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সামনে আসে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মাহফুজুর রহমান রুবেল গাঁ ঢাকা দিয়েছেন মাদ্রাসায় যান না।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাহফুজুর রহমান রুবেল দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের নানাভাবে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। গত সপ্তাহ দুয়েক আগে বিষয়টি প্রকাশে আসে। মাদ্রাসায় পড়ুয়া আট-নয় বছর বয়সী প্রায় দশজন ছাত্রীদের সাথে তিনি নানাভাবে যৌন হয়রানি চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ছাত্রীরা বিষয়টি বাড়িতে জানালে মাদ্রাসা পাঠানো বন্ধ করে দেন অভিভাবকরা।
তিনানী ভেলুয়া গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একাধিক ছাত্রীকে শিক্ষক মাহফুজুর রহমান রুবেল যৌন হয়রানি করলেও সামাজিক মান-সম্মানের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনি। শিক্ষকের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় মাতবররাও এ বিষয় নিয়ে নিশ্চুপ। তবে একসাথে আট দশজন শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় আসা বন্ধ করে দিলে শুরু হয় নানান সমালোচনা। বিষয়টি টের পেয়ে গাঁ ঢাকা দেন শিক্ষক মাহফুজুর রহমান। তবে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়।
অভিযুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক মাহফুজুর রহমান রুবেলের বক্তব্য নেওয়ার জন্য গণমাধ্যমকর্মীরা তার বাসায় গেলে পরিবারের সদস্যরা কোনো সহযোগিতা করেননি। ব্যবহৃত ফোন নাম্বারটিও বন্ধ। তাছাড়া ১৭ মে মাদ্রাসায় গেলে মাদ্রাসা বন্ধ ছিলো। তাছাড়া বাচ্চাদের মাদ্রাসায় পাঠানো বন্ধ করে দিয়ে আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে গেছেন অনেক অভিভাবক।
ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বলেন, আমরা ছেলে-মেয়েদের নিরাপদ মনে করেই মাদরাসায় পড়াশোনা করতে পাঠাই। কিন্তু একজন শিক্ষকের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা হতবাক ও লজ্জিত। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। তবে আমাদের শিশু বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকিয়ে আমরা গণমাধ্যমে কিছু বলতে পারবো না। বরং আমরা আর অই মাদ্রাসায় বাচ্চাদের পড়াবো না।
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা আহামেদ বলেন,আমি এমন তথ্য জানতে পেরে বিষয়টি ওসি শ্রীবরদীকে তদন্তের জন্য বলেছি। এছাড়াও আমি নিজেও ঘটনাস্থলে যাবো। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভুঁইয়া জানান, শ্রীবরদীর ভেলুয়ায় একটি মাদ্রাসায় ছাত্রীদের যৌন হয়রানির বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে। কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো লিখিত মামলা করা হয়নি। অভিযোগ সাপেক্ষে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে প্রাথমিকভাবে পুলিশ বিষয়টি খোঁজ খবর নিচ্ছে।
জে আই