দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শেরপুরে পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে কোরবানির পশু বেচাকেনা শুরু হয়েছে। ক্রেতারা হাট, খামার ও গৃহস্থের বাড়ি থেকে তাদের পছন্দের কোরবানির পশু কিনছেন। এবার ভারতীয় গরু যদি সীমান্ত দিয়ে ঢুকে তাহলে ব্যাপক লোকসানে পড়বেন বলে শঙ্কা খামারিদের।
আর জেলা পুলিশ বলছে, ভারতীয় গরু ঠেকাতে সীমান্তে পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আর শেরপুরের নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেঁষা।
শেরপুর নৌ-হাটা পৌর গরু-মহিষের হাট, আব্দুস সামাদ গরু হাট, নালিতাবাড়ী বাইবাস মোড় হাট, ঝিনাইগাতী সদর বাজার হাট ঘুরে খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভালো দামের আশায় তারা সারাবছর গরু লালন-পালন করেছেন। তবে এবার বাজার দর অন্যান্য বারের চেয়ে কম। আর যদি ভারতীয় গরু ঢুকে, তাহলে পুরোপুরি লোকসান গুনতেও হবে।
খামারিরা জানান, ধানের কুড়া, খেসারি, ধান, ভুট্টা ও ভুসিমিশ্রিত দানাদার খাবার সবকিছুর বাজার চড়া। শেরপুরে কলার ব্যপক আবাদ করায় কাঁচা ঘাস সহজেই পাওয়া যায় না। আর খড়ের দামও অনেক বেশি। তারমধ্যে শ্রমিকের মজুরি, বিদ্যুৎ বিল, চিকিৎসা খরচসহ আনুষঙ্গিক সকল খরচ অনেক বেশি। তাই লাভে অংক এবার মিলানো কঠিন।
ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর হাটে কথা হয় কাংশার খামারি আব্দুল কাদের মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, ‘বাপু এবার সব কিছুর দাম বেশি। ভূসি ৬৫ টাকা কেজি, কুড়ার বস্তা ১৫শ, খড়ের আটি সাড়ে সাত টাকা থেকে আট করে পড়েছে। এরমধ্যে শ্রমিক খরচের হিসেব রয়েছে। আর হাটে ক্রেতারা একেবারেই বেমানান দরাদরি করছে। গেল কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম দর এবার কম।’
একই কথা জানান, নালিতাবাড়ী বাইপাস মোড় হাটে আসা খামারি হোসাইন মিয়া। তিনি বলেন, ‘খাবার থেকে পোশাক, সবকিছুর দাম বেড়েছে। কোথাও আপত্তি নেই, আপত্তি কেবল গরুর নায্য দাম চাইলে। এবার আমাদের লাভ হবে না আর যদি ভারতীয় গরু আসে তাহলে সর্বনাশ। আমাদের খামারিদের বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ, কোনোভাবেই যেনো সীমান্তের ওপারের গরু না আসে।’
এদিকে জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের প্রধান ডাক্তার রেজুয়ানুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘জেলায় এবার স্থায়ী ২০ হাট বসেছে। এবং প্রতিটি হাটেই আমাদের মেডিকেল টিম কাজ করছে। তাছাড়া জেলায় চাহিদা রয়েছে ৬২ হাজার কোরবানির পশুর আর যোগান রয়েছে প্রায় ৯৩ হাজার পশু।’
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘সীমান্তে গরুসহ অন্যান্য চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবির সাথে জেলা পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছেন। সীমান্তে গরুর চোরাচালান শূণ্য রাখাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বদ্ধপরিকর।’
কেএম