দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আসন্ন ঈদুল আজহাকে ঘিরে কুমিল্লাজুড়ে কোরবানির পশুর বাজার প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জেলার ১৭ উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ৪৩২টি পশুর হাট বসানোর অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে হাটগুলোতে অবকাঠামো প্রস্তুত, নিরাপত্তা জোরদার এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ।
কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ১৭ উপজেলায় কোরবানির জন্য মোট ২ লাখ ৫৯ হাজার গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২ লাখ ৭১৭টি গরু, ১ হাজার ৭৪৮টি মহিষ, ৫৪ হাজার ৮৫২টি ছাগল, ৩ হাজার ২৩৫টি ভেড়া এবং অন্যান্য পশু ১৯৬টি।
এ বছর জেলাজুড়ে কোরবানির জন্য চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৫৮৬টি পশু। ফলে চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ১২ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
উপজেলা ভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, আদর্শ সদর উপজেলায় ১৮ হাজার ৬০৩টি, সদর দক্ষিণে ১২ হাজার ৮০১টি, বুড়িচংয়ে ১৬ হাজার ৮২টি, বরুড়ায় ১১ হাজার ৮৮৮টি, চৌদ্দগ্রামে ১২ হাজার ৭৭৪টি, চান্দিনায় ১৩ হাজার ৬৮৬টি, লাকসামে ৯ হাজার ৩৭২টি, লালমাইয়ে ৯ হাজার ৮১টি, ব্রাহ্মণপাড়ায় ৭ হাজার ৫৮১টি, দেবিদ্বারে ১২ হাজার ৪৩২টি, দাউদকান্দিতে ১২ হাজার ৭২৭টি, মুরাদনগরে ১৫ হাজার ৮১৬টি, মেঘনায় ৬ হাজার ১১৭টি, হোমনায় ৭ হাজার ৬২টি, তিতাসে ১০ হাজার ৩৭টি, নাঙ্গলকোটে ১৪ হাজার ৯৮৯টি এবং মনোহরগঞ্জে ৯ হাজার ৩৬৯টি কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে।
সদর দক্ষিণ উপজেলার রামিশা ক্যাটেল ফার্মের পরিচালক সবুর আহমেদ বলেন, ‘কুরবানির ঈদ সামনে রেখে বড় আকারের কয়েকটি গরু প্রস্তুত করেছি। গরুগুলোর গায়ের রঙ ও স্বাস্থ্য ভালো। ক্রেতাদের পছন্দ হবে বলে আশা করছি। তবে ভারতীয় গরু অবৈধভাবে না এলে খামারিরা ভালো দাম পাবেন।’
চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মাসকরা এলাকার গৃহস্থ আবদুর রশিদ বলেন, ‘গত বছর ভারতীয় গরুর কারণে লোকসান হয়েছে। এবার কয়েকটি গরু লালন-পালন করেছি। সীমান্তে কড়াকড়ি থাকলে দেশি গরুর দাম ভালো পাওয়া যাবে।’
এদিকে প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, চলতি বছর কুমিল্লার ছোট ও মাঝারি খামারগুলোতে দেশীয় জাতের গরু পালনে আগ্রহ বেড়েছে। অনেক খামারি প্রাকৃতিক খাবার ও ঘাসভিত্তিক পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজা করেছেন। এতে খামারিদের উৎপাদন খরচ কিছুটা কমেছে এবং ক্রেতাদের মধ্যেও স্থানীয় পশুর প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুল আলম বলেন, ‘এবার জেলার খামারিরা স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে দেশীয় পদ্ধতিতে পশু লালন-পালন করেছেন। আমরা নিয়মিত খামার পরিদর্শন করছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা রাসায়নিক ব্যবহার যেন না হয়, সে বিষয়েও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় খামারিদের উৎপাদিত পশুর মান ভালো হওয়ায় বাজারে দেশীয় গরুর চাহিদা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে খামারিরা লাভবান হবেন।’
এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর হাটে জাল টাকা, ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঠেকাতে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা প্রশাসন। গুরুত্বপূর্ণ হাটগুলোতে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি পুলিশ, র্যাব, আনসার ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান বলেন, ‘ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে পশু কেনাবেচা করতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ হাটে সিসিটিভি নজরদারি থাকবে। এছাড়া যানজট নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।’
হাট ইজারাদারদেরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পর্যাপ্ত পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
খামারি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, জেলায় পর্যাপ্ত পশু থাকায় এবার বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা নেই। গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা সহনীয় থাকলে ক্রেতাদের উপস্থিতিও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
কুমিল্লার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে অনেক খামারি তাদের গরু বাজারজাতের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেও পশু বিক্রির চেষ্টা করছেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগী কমে খামারিরা সরাসরি লাভবান হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
/অ