দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাবনার সাঁথিয়ায় একটি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারাকে (নিলাম) কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা ১১টা থেকে পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
স্থানীয় ও পৌর প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাঁথিয়া পৌরসভাধীন সাঁথিয়া বাজারসংলগ্ন ইছামতী নদীর তীরে ডাইকের পাশের পরিত্যক্ত জায়গায় একটি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে পৌরসভার পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানালে তা অনুমোদিত হয়। এরপর গত ১৯ মে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই হাটের উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করে পৌর প্রশাসন।
নিলামে অংশ নিতে শর্তানুযায়ী ২০ হাজার টাকা করে জামানত দিয়ে মোট ২৬ জন দরদাতা আবেদন করেন। তবে নিলাম চলাকালে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে হঠাৎ উত্তেজনা ও হট্টগোল শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই দিনই পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিফ রায়হান নিলাম কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেন।
পরবর্তীতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় পুনরায় নিলামের ডাক দেওয়া হলে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও তীব্র বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিলাম বর্জন করে উপজেলা পরিষদের হলরুম থেকে বেরিয়ে যান। খবর পেয়ে থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বেলা ১১টায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত নেয়।
পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা পৌর প্রশাসনের আহ্বানে সুষ্ঠুভাবে নিলামে অংশ নিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু জামায়াতের নেতাকর্মীরা সেখানে আমাদের গালিগালাজ ও নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেয়। এমন পরিস্থিতিতে আমরা নিলাম বর্জন করতে বাধ্য হয়েছি।’
অন্যদিকে, উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মেহেদী হাসান বলেন, ‘অস্থায়ী পশুর হাট নিয়ে একটি উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের কিছু মহলের যোগসাজশে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হাটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘একটি পক্ষকে সুবিধা দিতেই প্রশাসন শেষ মুহূর্তে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। অথচ একই উপজেলার কাশিনাথপুরে কোনো টেন্ডার বা ডাক ছাড়াই বিএনপিপন্থী হওয়ায় অন্য একটি পক্ষকে পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’
এই পক্ষপাতিত্বের কারণে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিকে সাঁথিয়া পৌরসভাধীন বোয়াইলমারী হাটের ইজারাদার সাদ্দাম হোসেন জানান, ইছামতী নদীর ডাইকের পাশে কোনো অস্থায়ী পশুর হাট বসানো হচ্ছে না। তারা আগামী সোমবার থেকে বোয়াইলমারী পেঁয়াজ হাটেই পশুর হাটের আয়োজন করবেন।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, ‘ইছামতী নদীর ডাইকের পাশের ওই জায়গাটি এখনো কোনো পক্ষকে ইজারা দেওয়া হয়নি। হাটটিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় জনস্বার্থে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।’
ইউএনও আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ওই নির্দিষ্ট এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত, সভা-সমাবেশ, মিছিল, মাইকিং এবং যেকোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠিসোঁটা বা দেশীয় অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, ‘বিএনপি আবারও প্রমাণ করল, তাদের কাছে সাঁথিয়ার স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থই বড়। আমরা ছাড় দিয়ে হলেও ডাকের মাধ্যমে গরুর হাট বসানোর পক্ষে ছিলাম। কিন্তু তারা প্রশাসনকে ব্যবহার করে ১৪৪ ধারা জারি করিয়ে হাট বন্ধ করে দিলো, যেন সাঁথিয়ার মানুষকে বেড়া থেকে গরু কিনতে হয়। জনগণের ন্যায্য দাবি দমন করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার এই মানসিকতার বিচার আমরা সাঁথিয়ার সচেতন জনগণের ওপর ছেড়ে দিলাম।’
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাঁথিয়া উপজেলা সদর ও হলরুম এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
/অ