দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের চিরাপাড়া গ্রামের খামারি মো. রফিকুল ইসলামের পালিত বিশাল আকৃতির ষাঁড় “জমিদার” এখন এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ষাঁড়টি এক নজর দেখতে ও কিনতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সম্ভাব্য ক্রেতারা।
খামারি রফিকুল ইসলাম জানান, আড়াই বছর বয়সী দেশীয় জাতের এই ষাঁড়টির নাম তিনি আদর করে রেখেছেন “জমিদার”।
ছোটবেলা থেকেই নিজের সন্তানের মতো যত্ন করে গরুটি লালন-পালন করেছেন। বর্তমানে গরুটির ওজন প্রায় ৭০০ কেজি। বিশাল আকৃতি ও আকর্ষণীয় গঠন দেখে অনেকেই বিস্মিত হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, “আমি সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার খাইয়ে গরুটি বড় করেছি। খড়,ভুসি, ঘাস, ধানের কুঁড়া ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক খাবার দিয়েছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর কিছু ব্যবহার করিনি। নিজের হাতে পরিচর্যা করেছি বলেই গরুটি এত সুন্দর হয়েছে।” রফিকুল ইসলাম জানান, “জমিদার”-এর দাম চাওয়া হয়েছে ৬ লাখ টাকা। তবে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব পেয়েছেন। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ গরুটি দেখতে আসছেন। অনেকে ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন। এতে তিনি বেশ আনন্দিত।
এলাকাবাসীর মধ্যেও “জমিদার” নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন আলী বলেন, “আমরা অনেক বড় গরু দেখেছি, কিন্তু এই গরুটির গঠন ও সৌন্দর্য আলাদা। দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ দেখতে আসছে। এটি এখন এলাকার অন্যতম আকর্ষণ।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সালেহা আক্তার বলেন, “রফিক খুব যত্ন করে গরুটি পালন করেছে। গরুটি দেখতে সত্যিই অনেক সুন্দর। ঈদ সামনে হওয়ায় মানুষের আগ্রহ আরও বেড়েছে।”
কাউখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সোমা সরকার বলেন, কোরবানিকে সামনে রেখে পশু মোটাতাজাকরণে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রফিকুল ইসলামের খামারও প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তিনি প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরুটি লালন-পালন করেছেন। কোনো ক্ষতিকর হরমোন বা স্টেরয়েড ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে উপজেলায় পর্যাপ্ত কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে এবং খামারিদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
এমএম/কেএম