দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুরে আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুর বাজারে উদ্বৃত্ত সরবরাহ তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে ন্যায্য দাম পাওয়ার বিষয়ে শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় খামারিরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা ২১ হাজার ৮৯৯টি হলেও প্রস্তুত রয়েছে ২৭ হাজার ৪০৬টি পশু। ফলে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খামারিরা বলছেন, এই অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বাজারে দাম কমে যেতে পারে। তবে তারা আশা করছেন, উদ্বৃত্ত পশু দেশের অন্যান্য জেলায় পাঠানোর মাধ্যমে কিছুটা ভারসাম্য তৈরি হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তরুণ কুমার সিকদার জানান, চাহিদার তুলনায় এ বছর পশু বেশি রয়েছে। বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গরু মোটাতাজাকরণে কেমিক্যাল ব্যবহার ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি চলছে বলেও জানান তিনি।
এ বছর জেলায় দেশি জাতের পাশাপাশি শাহিওয়াল, ফ্রিজিয়ান, নেপালি ঘির, রাজস্থানি ও অস্ট্রেলিয়ান জাতের গরু পালন করা হয়েছে।
তবে খামারিদের বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে খাদ্যের দাম বৃদ্ধি। খাদ্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে বলে তারা জানান।
ভান্ডারিয়ার জে.কে ডেইরি ফার্মের পরিচালক জাকির হোসেন নিজাম বলেন, তার খামারে ৯৬টি গরু রয়েছে, যার মধ্যে ৪০টি কোরবানির জন্য প্রস্তুত। তিনি জানান, স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জেও গরু পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
কাউখালীর খামারি সুমন শেখ জানান, তার খামারের ১০টি গরুর মধ্যে ইতোমধ্যে ৪টি বিক্রি হয়েছে। নাজিরপুরের খামারি আকাশ বেপারী বলেন, দেশীয় পদ্ধতিতে গরু পালন করায় খরচ তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে।
খামারিরা আরও জানান, সীমান্ত দিয়ে গরু প্রবেশ করলে স্থানীয় বাজারে চাপ বাড়তে পারে, এতে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে পিরোজপুরের খামারিরা এখন শেষ মুহূর্তে পশুর পরিচর্যা ও বিক্রির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জে আই