দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নওগাঁর বদলগাছীতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুল শিক্ষিকার মর্মান্তিক মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তার মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে এক ছাত্রীরও মৃত্যু হয়েছে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে বদলগাছী-মাতাজি সড়কের চাকরাইল বটতলী এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে ধান মাড়াই মেশিন বহনকারী ভ্রাম্যমাণ গাড়ির (বঙা মেশিন) মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন বদলগাছী লাবণ্য প্রভা পাইলট ও কমিউনিটি বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা উম্মে কুলসুম (৪৮)। এ ঘটনায় আহত হন একই বিদ্যালয়ের আরেক সহকারী শিক্ষিকা মমতাজ বেগম (৫৫)। তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর কিছুক্ষণ পর প্রিয় শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর শুনে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিম আরা (১৪)। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত তাসনিম উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য আবুল কালাম চৌধুরীর মেয়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোর্ড পরীক্ষার খাতা আনতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার দুপুরে বদলগাছী থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রওনা দেন শিক্ষিকা উম্মে কুলসুম ও মমতাজ বেগম। পথে চাকরাইল বটতলী এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা ধান মাড়াই মেশিনবাহী গাড়ির সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং দুই শিক্ষিকা গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে বদলগাছী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উম্মে কুলসুমকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, শিক্ষিকা উম্মে কুলসুম শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্কুলজুড়ে শোক নেমে আসে।
এদিকে, তাসনিম আরার বাবা আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, ‘ফেসবুকে শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর দেখে আমার মেয়ে হাসপাতালে যায়। শিক্ষিকাকে দেখতে এসেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে জানতে পারি আমার মেয়েও আর নেই।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হাসপাতালে এসে শিক্ষিকার মরদেহ দেখার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে তাসনিম। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক শামিন ইয়াসার বলেন, ‘শিক্ষিকা উম্মে কুলসুমকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল। আর ছাত্রী তাসনিমকে হাসপাতালে আনার পর তার মৃত্যু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, আকস্মিক তীব্র মানসিক ধাক্কায় মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়া বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হতে পারে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের ওপর ধান ও খড় শুকানোর কারণে রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছিল। দুর্ঘটনার পর দ্রুত সড়ক থেকে ধান সরিয়ে নিতে দেখা যায় অনেককে। রাস্তার ওপর শুকাতে দেওয়া ধানের পাশে ইট দিয়ে চিহ্ন দেওয়া ছিল বলেও জানান স্থানীয়রা।
লাবণ্য প্রভা পাইলট ও কমিউনিটি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘শিক্ষিকা উম্মে কুলসুম এবং শিক্ষার্থী তাসনিম আরার মৃত্যুতে পুরো বিদ্যালয় পরিবার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার মাঝেই গভীর শোক বিরাজ করছে।’
বদলগাছী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতালে এসে এক ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। নিহত শিক্ষিকার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ধানমাড়াই মেশিন ও অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান ছনি হাসপাতালে গিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, ‘শিক্ষিকা ও ছাত্রীর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। সড়কে ধান-খড় শুকানো বন্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
/অ