দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে ষাটোর্ধ্ব এক বিএনপি নেতাকে সালিসে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। প্রহলাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. রাশিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে।
নিহত জয়নাল আবেদীন (৬০) প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ফাওগান গ্রামের মৃত নইমুদ্দিনের ছেলে এবং স্থানীয় ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার ফাওগান বাজারে জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ তোলা হয়। অভিযোগের পরপরই ইউপি সদস্য রাশিদুল ইসলাম তাকে সালিসের কথা বলে ডেকে ফাওগান স্কুল মাঠে নিয়ে যান। সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়।
নিহতের ছেলে আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, বাবাকে তিন দফায় পিটিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় একটি ওষুধের দোকানের সামনে ফেলে রাখা হয়। এমনকি তাকে হাসপাতালে নিতে চাইলেও হামলাকারীরা বাধা দেয়। পরে বাড়িতে নিয়ে গেলে সেখানেও পুনরায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মারধর করা হয়।
আরেক ছেলে মনির হোসেন বলেন, মারধরের একপর্যায়ে তারা বাবার অণ্ডকোষ চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করার চেষ্টা করে। অনেক কষ্টে বাবাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার রাতে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রাশিদুল ইসলাম এবং অভিযোগকারী শিশুর পরিবার এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত উল্লেখ করে বলেন, মিথ্যা অভিযোগে একজন ভালো মানুষকে এভাবে পিটিয়ে মারা হলো। আমরা এই নৃশংসতার সুষ্ঠু বিচার চাই।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। একটি সংঘবদ্ধ দল পিটিয়ে একজনকে হত্যা করেছে বলে আমরা প্রাথমিক তথ্য পেয়েছি। নিহতের পরিবার দাফন-কাফন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলেই মামলা রুজু হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এমএম/কে