দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নড়াইলে এক প্রসূতি মা ৭টি সন্তান প্রসব করেছেন। চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ৬টি সন্তানের কথা জানানো হলেও তিনি নরমালভাবে ৭টি সন্তান প্রসব করেছেন। এদের মধ্যে ৩টি কন্যা সন্তান ও ৪টি পুত্র সন্তান। যদিও নির্ধারিত সময়ের আগে প্রসব হওয়ায় শিশুগুলো মারা গেছে। ঘটনাটি নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামে। সালমা বেগম নামে ওই মা ওই গ্রামের মহসিন মোল্যার স্ত্রী। প্রসূতি মা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১১টার দিকে কালুখালী গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি কবর দেয়া হয়েছে ৬টি সন্তানকে। অপর একটি সন্তানকে যশোরের একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, কালুখালী গ্রামের লতিফ মোল্যার ছেলে মহসিন মোল্যা ১০ বছর আগে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি পর্যায়ক্রমে সৌদি আরব ও মালয়েশিয়াতে ৭ বছর ছিলেন। মহসিন ৩ বছর আগে দেশে ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি ইজিবাইক চালান।
পারিবাকির সুত্রে জানা গেছে, ৫ বছর আগে একবার মহসিন মোল্যার স্ত্রী সন্তান সম্ভাবনা হয়েছিলেন। কিন্তু অনাকাঙ্খিত গর্ভপাতের কারণে বাচ্চাটি নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘ ১০ বছর পর সালমা বেগম পুনরায় সম্ভাবনা হন। কয়েক মাস পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসক জানান, সালমার গর্ভে ৬টি সন্তান রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকের রিপোর্ট ভুল প্রমাণিত করে সালমা বেগম ৭টি সন্তান প্রসব করেন।
মহসিন মোল্যার মা জানান, ৬টি সন্তানের খবর জানতে পেরে তাদের পরিবারে আনন্দের জোয়ার বইছিলো। তার পুত্রবধুর সেবাযত্নের কোন কমতি ছিলো না। গত সোমবার (৪ মে) বিকেলে হঠাৎ করে তার পুত্রবধুর পেটে ব্যাথা শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে ভর্তি করার পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে প্রথমে একটি সন্তান প্রসব করে। নবতাজক শিশুটি কিছুক্ষণ পর মারা গেলে মহসিনের বাবা মৃতদেহটি নিয়ে গ্রামেরবাড়িতে চলে আসেন। এরপর রাতে আরো একটি সন্তান প্রসব করে। কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় শিশুটিরও মৃত্যু হয়। এরপর রাতেই যশোরের একটি কবরস্থানে দাফন করা হয় শিশুটিকে। পরের দিন বুধবার রাতে একে একে আরো ৫টি সন্তান প্রসব করেন সালমা বেগম। জন্মের বেশ কিছুক্ষণ পর শিশুগুলোর মৃত্যু হয়।
মহসিন মোল্যার বাবা লতিফ মোল্যা বলেন, ‘রাতে জন্ম নেয়া ৫টি শিশুর মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নিজের হাতে দাফন করি। এতোগুলি শিশুকে দাফণ করা যে কতবড় কষ্টের তা কাউকে বলে বুঝানো যাবে না। দীর্ঘ ১০ বছর পর আমরা আশায় বুক বেঁধেছিলাম। পৃথিবীতে আমার অনেকগুলি ভাইবোন আসবে। কিন্তু আল্লাহপাক আমাদের নিরাশ করে দিলেন।’
স্থানীয় শিক্ষক আবু সেলিম বলেন, ‘এক সাথে এতোগুলো সন্তান কারও হয়েছে এমন তথ্য আমার জানা নেই। মহসিনের স্ত্রী সালমা বেগমের গর্ভের সন্তানগুলোর বয়স মাত্র ৫/৬ মাস। যার কারণে চিকিৎসকরা চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেনি বলে জানতে পেরেছি।’
কেএম