দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এম এ ইউ একাডেমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকারের গাফিলতিতে প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
জানা যায়, বিদ্যালয়টি থেকে এবার মোট ২১২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আগামী বুধবার থেকে সারাদেশে একযোগে পরীক্ষা শুরু হবে। তবে পরীক্ষার আগে প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের ভুল দেখতে পান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কারো প্রবেশপত্রে বাবা-মায়ের নাম ভুল, কারো ছবির সঙ্গে মিল নেই, আবার ছেলের জায়গায় মেয়ের ছবি এবং বিষয় পরিবর্তনের ঘটনাও রয়েছে। কয়েকজন পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রই আসেনি। এতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, প্রধান শিক্ষক ফরম পূরণের কাজে স্বচ্ছতা না রেখে এককভাবে একটি দোকানের মাধ্যমে কাজ করায় এসব ভুল হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র হাতে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছে এবং ভুল সংশোধনের জন্য উদ্বেগে রয়েছে। অনেকের মুখে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার ছাপ দেখা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার বিভিন্ন সময় অনিয়মের মাধ্যমে ফরম পূরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি বিদ্যালয়ে অনিয়মিতভাবে উপস্থিত থাকেন এবং অতীতেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
পরীক্ষার্থী আল আমিন ও নাজিয়া আযম বন্ধন বলেন, পরীক্ষা সামনে, কিন্তু আমরা এখনো প্রবেশপত্র পাইনি বা ভুল ঠিক হয়নি। এতে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।
আরেক শিক্ষার্থী হযরত আলী বলেন, আমার প্রবেশপত্রে অন্য শিক্ষার্থীর ছবি এসেছে। কীভাবে পরীক্ষা দেব বুঝতে পারছি না।
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি শামসুজ্জোহা বলেন, ফরম পূরণের সময় প্রয়োজনীয় ফি নেওয়া হলেও এমন ভুল হওয়ার কথা নয়। এটি গুরুতর অব্যবস্থাপনার ফল।
প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার বলেন, সব সমস্যার সমাধান পরীক্ষার আগেই করা হবে।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানা গেছে। কোনো শিক্ষার্থী যেন পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এমএস/