দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালানোর অভিযোগে এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে তাকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে পৌর শহরের দক্ষিণ বন্দর গোডাউন সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তি নিজেকে ডা. লিয়াকত হোসেন পরিচয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিভিন্ন ক্লিনিকে হৃদ্রোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্দেহজনক চিকিৎসা কার্যক্রম এবং ভুল প্রেসক্রিপশনের কারণে স্থানীয় চিকিৎসকদের মধ্যে তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
প্রায় এক মাস আগে এক প্রসূতিকে পরীক্ষা করে তিনি ভুলভাবে জানান, তার গর্ভের সন্তান মারা গেছে। পরে অন্য এক চিকিৎসকের করা আল্ট্রাসনোগ্রাম দেখা যায়, শিশুটি সুস্থ ও জীবিত রয়েছে। এ ঘটনার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সৌমিত্র সিনহা বিষয়টি প্রশাসনকে জানালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের সময় ওই ব্যক্তি একাধিকবার নিজের পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করেন। প্রথমে তিনি ডা. লিয়াকত হোসেন পরে ডা. নুরুল ইসলাম এবং সর্বশেষ উরিং চাং নামে পরিচয় দেন। তবে তিনি কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র বা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
প্রশাসনের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পর তার প্রকৃত পরিচয় জানা যায়। তার আসল নাম সুবাস চন্দ্র মোহন্ত। তার বাড়ি বগুড়ায়। পরে ধর্মান্তরিত হয়ে তিনি নুরুল হাসান নাম ধারণ করেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথ বলেন, মানুষের জীবন নিয়ে প্রতারণার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের প্রতারণা রোধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জে আই