দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কক্সবাজার সদরে দাম্পত্য কলহের জেরে ‘ঘুমের ওষুধ খাইয়ে’ মস্তক ও দুই হাতের কব্জি কেটে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে পলাতক স্বামী সাইফুল ইসলাম তারেককে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান, কক্সবাজার সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুর মোহাম্মদ।
গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তারেক মহেশখালী পৌরসভার দাসী মাঝি পাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে।
নিহত শাহিদা আক্তার রিপা ওরফে মুন্নী মহেশখালী পৌরসভার চরপাড়ার আমান উল্লাহর মেয়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের জানারঘোনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়া উৎকট দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে একটি পরিত্যক্ত পুকুরের কিনারায় কম্বল মোড়ানো অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোড়ানো কম্বলটি খুলে মরদেহটি উদ্ধার করেছে। অন্তত ৪/৫ দিন আগে এই নারীর শরীর থেকে মাথা ও এক হাতের কব্জি কেটে বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হয়েছিল। পরে পুলিশ নিহতের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
পরে গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) নিহতের মা হাসিনা বেগম বাদী হয়ে পলাতক ঘাতক স্বামী সাইফুল ইসলাম তারেককে প্রধান করে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।
এসআই নুর মোহাম্মদ বলেন, ঘটনার পর থেকে ঘাতক স্বামী সাইফুল ইসলাম তারেক পলাতক ছিল। পরে পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার পলাতক আসামির অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে ঢাকার শাহবাগ থানা এলাকা থেকে বিক্ষিপ্তভাবে ঘুরাঘুরি অবস্থায় সাইফুল ইসলাম তারেককে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার আসামিকে পুলিশ কক্সবাজার নিয়ে আসে। পরে আসামির স্বীকারোক্তি মতে ঘটনাস্থলের ভাড়া বাসায় তল্লাশী করে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা ও রসমালাইয়ের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামির প্রাথমিক স্বীকারোক্তির বরাতে তিনি বলেন, গত ৬/৭ মাস আগে স্ত্রী শাহিদা আক্তার রিপা ওরফে মুন্নীর অমতে সাইফুল ইসলাম তৃতীয় বিয়ে করেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। পরে কলহের জেরে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সাথেও সাইফুল ইসলাম তারেকের বিরোধ দেখা দেয়। ওই বিরোধের জেরে গত রমজানের মাঝামাঝি সময়ে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার এসে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে শুরু করে।
ঘটনার দিন রাতে স্ত্রী শাহিদা আক্তার রিপা ওরফে মুন্নীকে রসমালাইয়ের সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অবচেতন করে। একপর্যায়ে ধারালো ছোরা দিয়ে শরীর থেকে মাথা ও দুই হাতের কব্জি কেটে বিচ্ছিন্ন করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে লাশের পরিচয় গোপনের উদ্দ্যেশে মাথা ও হাতের কব্জি দুইটি বাঁকখালী নদীর নতুন ব্রিজের নিচে পানিতে ফেলে দেয়।
এসআই নুর মোহাম্মদ জানান, বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্রেপ্তার আসামিকে নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মিদের সহায়তায় বাঁকখালী নদীর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া নিহতের মস্তক ও হাতের কব্জির সন্ধানে অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযানে নিহতের মস্তক ও হাতের কব্জির সন্ধান মেলেনি।
কে