দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জয়পুরহাটে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। বর্তমানে এই হাসপাতালে হামে আক্রান্ত মোট ১৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জয়পুরহাটের বিভিন্ন উপজেলা থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৭৪ জন রোগী। এর মধ্যে অনেকেই চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এরমধ্যে নতুন করে রোগী বাড়ায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ৪৪ শয্যার একটি বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে রোগীদের আলাদা রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।
হাসপাতালে ভর্তি একাধিক শিশুর অভিভাবক জানান, তাদের সন্তানদের হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সরা যথাযথ সেবা দিচ্ছেন বলে তারা জানান।
জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছাঃ লিপি আক্তার বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিক তাদের পর্যবেক্ষণে রাখছি এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অনুসরণ করা হচ্ছে।
এদিকে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আল মামুন বলেন, হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি ও মনিটরিং করছি এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত চিকিৎসা নেওয়া ৭৪ জনের মধ্যে ৩ জনের রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। আর ৪০ জনের রিপোর্ট এখনো আসেনি। হাম রোগীর জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে আমরা এক্সট্রা আইসোলেশন ওয়ার্ড খুলেছি। উপজেলার হাসপাতাল গুলোতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত জয়পুরহাটে হামে আক্রান্ত কোন রোগী মারা যায়নি। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভিটামিন এ ক্যাপসুল সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে এবং হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, হামের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সবসময় সহজলভ্য থাকে না। তারা দ্রুত সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের মধ্যে বেশি ছড়ায়। তাই শিশুদের নিয়মিত টিকা প্রদান এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। হাসপাতালে শিশুদের না নিয়ে আসার জন্য বলা হচ্ছে।
এমএস/