দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বগুড়ার সান্তাহার জংশনের কাছে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় বুধবার মাঝরাতের দিকে ট্রেন চলাচল সীমিতভাবে স্বাভাবিক হলেও বৃহস্পতিবার ট্রেন ছাড়তে বিলম্ব হতে পারে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে রাত ও ভোরের ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে চলার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বগুড়ার সান্তাহার জংশনের নিকটবর্তী ছাতিয়ান গ্রামে লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনটির ৭টি বগি লাইনচ্যুত এবং অন্তত ৮টি চাকা ভেঙে গেছে, যা দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার খাদিজা বেগম জানান, দুর্ঘটনার কারণে ট্রেন চলাচলে তাৎক্ষণিক বড় প্রভাব না পড়লেও বৃহস্পতিবার থেকে সময়সূচিতে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “যেসব ট্রেন রাতে বা ভোরে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা, সেগুলো দেরিতে আসতে পারে। একই কারণে বৃহস্পতিবার ওই রুটে ট্রেন ছাড়তেও বিলম্ব হতে পারে।”
রেলওয়ে সূত্র জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটির চাকা ভেঙে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ জটিল হয়ে পড়েছে। পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অন্তত একদিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই সারা দেশের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিভিন্ন রুটের একাধিক ট্রেন মাঝপথে আটকা পড়ে। খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রূপসা এক্সপ্রেস সান্তাহারে, পঞ্চগড় থেকে ছেড়ে আসা বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস জয়পুরহাট স্টেশনে এবং রাজশাহী থেকে আসা বরেন্দ্র এক্সপ্রেস সান্তাহার জংশনে অবস্থান করছে। এছাড়া ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একতা এক্সপ্রেসও সান্তাহারে আটকে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের ছাদে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রী নিচে পড়ে আহত হন। স্থানীয়দের ভাষ্য, আহতের সংখ্যা শতাধিক হতে পারে। তাদের মধ্যে অন্তত ১৮ জনকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। এছাড়া আরও ৬৬ জনকে এ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ হোসেন মাসুম বলেন, “কোনো ধরনের গাফিলতি বা তথ্যগত ঘাটতি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। আমরা দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেব।”
সান্তাহার জংশনের এই দুর্ঘটনা শুধু তাৎক্ষণিক যাত্রী দুর্ভোগই নয়, বরং পুরো উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগে সাময়িক অচলাবস্থা তৈরি করেছে। উদ্ধার কাজ দ্রুত সম্পন্ন না হলে বৃহস্পতিবার ট্রেন চলাচলে বড় ধরনের বিলম্ব অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়িয়ে সর্বশেষ সময়সূচি জেনে স্টেশনে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরএ