দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মদাতি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই কারাফটক থেকে পুনরায় গ্রেপ্তার হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে তাকে লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল নিজেদের হেফাজতে নেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ১১ মার্চ কালীগঞ্জ থানা পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। গতকাল (সোমবার) আদালতে জামিন আবেদন করলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে জামিনের পর মুক্তির প্রক্রিয়া শেষে আজ কারাগার থেকে বের হওয়া মাত্রই ডিবি পুলিশ তাকে পুনরায় আটক করে। পরে ডিবি কর্তৃক আটককৃত ইউপি চেয়ারম্যানকে আদিতমারী উপজেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। এই মামলাটি গত বছরের ৩ মার্চ দায়েরকৃত ( মামলা নং-০৪)।
লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ জানান, আদিতমারী থানার একটি রিকুইজিশনের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদিতমারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় রাজনীতিতে জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লবকে নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করে ভিজিএফ চালের ৩০ শতাংশ (৩০%) ভাগ দাবি করার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজের কণ্ঠ সদৃশ একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এমপি সাহেবের থার্টি পারসেন্ট আপনি বুঝিয়ে দিয়েছেন? আমরা কিন্তু বিনা ভোটে আসি নাই।’
চেয়ারম্যানের পরিবার দাবি করছে, এই কল রেকর্ড ভাইরাল হওয়ার জেরে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করতেই একের পর এক মামলায় জড়ানো হচ্ছে। চেয়ারম্যানের ছোট ভাই অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কাজল বলেন, ‘আমার ভাই কোনো মামলারই এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন না। জামিন পাওয়ার পরও সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই জেলগেট থেকে তাকে আবারও তুলে নেওয়া হয়েছে এবং আদিতমারী উপজেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। যে মামলায় এজাহার ভুক্ত আসামি নন ইউপি চেয়ারম্যান।
এদিকে কল রেকর্ডের বিষয়টি অস্বীকার করে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজ বলেন, ‘ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া কল রেকর্ডটি আমার নয়। ওই চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার কোনো কথাই হয়নি। আমি দীর্ঘ ১৭ বছর জনগণের অধিকার আদায়ে লড়াই করেছি।’
উল্টো তিনি এলাকায় কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, সেদিকে নজর দিতে সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান। তার একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আক্তার জাহান অডিও প্রসঙ্গে বলেন, ‘ভিজিএফ নিয়ে আমরা চিঠিতে নির্দেশনা দিয়েছি ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে। আমরা অন্য কাউকে নির্দেশনা দিতে পারি না। তবে কোনো পার্সেন্ট বা অন্য কোনো নির্দেশনা নেই। আমরা দিতে পারি না।’
ভাইরাল হওয়া কল রেকর্ডটি শুনেছেন বলেও জানান তিনি।
/অ