দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাদারীপুরেরর শিবচরে বাড়ির পাশের গাছ থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় সোহেল বেপারী (৩৮) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে স্বজনদের দাবি, সুদের টাকা দিতে না পারায় সোহেল বেপারীকে পাওনাদার ও তার সহযোগীরা হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে।
এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবীতে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের চান্দেরচর বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে নিহতের স্বজনেরা।
নিহতের স্বজনরা জানান, একই এলাকার হাসান মাদবর নামের এক ব্যক্তির নিকট থেকে সুদে কিছু টাকা এনেছিলেন সোহেল বেপারী। ওই টাকা দিতে না পারায় কিছুদিন আগেও একবার হাসান মাদবর ও তার লোকজন সোহেল বেপারীকে মারধর করেন। এরপর গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে একটি ফোনকল আসার পর ঘর থেকে বের হয়ে যায় সোহেল। রাতে ঘরে না ফেরায় খোঁজাখুঁজি করেন পরিবারের লোকেরা। পরে সকালে বাড়ির পাশেই একটি গাছে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঝুলে থাকতে দেখে তাকে।
খবর পেয়ে শিবচর থানা পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর মর্গে পাঠায়। তবে পরিবারের দাবি, সোহেলকে সুদের পাওনা টাকার জন্য হাসান মাদবর ও তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে।
তাদের অভিযোগ, এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে চাইলে পুলিশ মামলা নেয়নি। শুক্রবার মানববন্ধনে পরিবারের লোকজন ছাড়াও স্থানীয়রা অংশ নেন। এসময় দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
নিহতের বড় মেয়ে সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘হাসান মাদবররা এলাকায় সুদের ব্যবসা করে। আমার বাবা কিছু টাকা ধার এনেছিল। এই টাকার জের ধরেই ওরা আমার বাবাকে মেরে গাছে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের বাড়ির কাছে একটি ক্ষেতের বেশ কিছু স্থানে ধস্তাধস্তির চিহ্ন রয়েছে। আমার বাবার দুই হাতের মুঠোর মধ্যে মাটি লেগেছিল। আমার বাবা আত্মহত্যা করে নাই। ওরা মেরে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। আমরা মামলা করতে চাইলে থানায় মামলা নেয়নি। হাসান মাদবর ও তার লোকজন এখনও আমাদের হুমকি দেয়। আমরা এর বিচার চাই।’
মাদারীপুর সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো. সালাউদ্দিন কাদের বলেন, সোহেল বেপারীর লাশটি একটি গাছে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঝুলে ছিল। প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে আত্মহত্যা। পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে হত্যা নাকি আত্মহত্যা তার রহস্য জানা যাবে। তখন এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবি/