দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে আমেনা আক্তার (১৫) নামে এক তরুণীকে বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিহত তরুণীর মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় এ হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে রাতেই বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- এবাদুল্লাহ (৪০), আহম্মদ আলী মেম্বার (৬৩), মো. ইমরান দেওয়ান (৩২) ও মো. আইয়ুব (৩০)।
এদিকে এ ঘটনায় জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীলসমাজ এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন হত্যার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে জেলা প্রশাসক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন,‘আমি নরসিংদীর জেলা প্রশাসক এবং সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি, তারা যেন এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে সকল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেন এবং নিহতের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেন। আমিনার পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায় তা নিশ্চিত করতে আমার সাধ্যের সবটুকু আমি করব এবং কোনো একজন অপরাধীকেও ছাড় দেওয়া হবে না।’
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, নিহত কিশোরীর মা বাদি হয়ে ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরই মধ্যে ৪ এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাধবদী থানার মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা খেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় আমেনা আক্তার (১৫) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, নিহতের বাবা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাদে স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূর মোহাম্মদ নূরার নেতৃত্বে ৫/৬ জনের একটি দল এলাকা থেকে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসাও করা হয়।
বুধবার রাতে বাবা আশরাফ হোসেন তার কাজ শেষে মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছলে নূর মোহাম্মদ নূরার নেতৃত্বে আরও ৫ জন মিলে তার বাবার কাছ থেকে আমেনাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজনসহ বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে বাড়ি ফিরে যায়। সকালে একই এলাকার একটি সরিষা খেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো মরদেহটি দেখতে পায় স্থানীয়রা।
/অ