দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ময়মনসিংহ নগরের আনন্দ মোহন কলেজের দুই শিক্ষার্থী ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বেড়াতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের কবলে পড়েন। সাঁতরে একজন প্রাণে বাঁচলেও নূরুল্লাহ শাওন (২৬) নামের অন্য শিক্ষার্থীর মরদেহ গত শুক্রবার রাতে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আদালতে দুই কিশোর জবানবন্দি দিয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তনয় সাহার আদালতে দুই কিশোর জবানবন্দি দেয়। তাদের একজনের বয়স ১৪ ও অন্যজনের বয়স ১৫ বছর। এ ঘটনায় ছয় কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে আগেই আদালতের মাধ্যমে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। বাকি পাঁচজনকে আদালতে হাজির করা হলে দুজন জবানবন্দি দেয়। পরে সবাইকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দুই বন্ধু ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে গেলে কিশোর দলটি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেখানে কেন এসেছে জানতে চেয়ে তাদের কাছে যা আছে বের করতে বলা হয়। একজন নৌকাভাড়া ছাড়া আর কোনো টাকা নেই বলে জানায়। শাওনের কাছে একটি বাটন ফোন এবং তার বন্ধুর কাছে একটি স্মার্টফোন ছিল। একপর্যায়ে তাদের মারধর শুরু করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দিলে একজন নদ সাঁতরে পালাতে সক্ষম হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শাওন নদের পাশ ধরে কিছু দূর দৌড়ানোর পর কিশোরদের ধাওয়ার মুখে পড়েন। সাঁতার না জানায় তিনি কোনো উপায় না দেখে ব্রহ্মপুত্র নদে ঝাঁপ দেন। নদ খননের কারণে গভীর পানিতে পড়ে তিনি তলিয়ে যেতে থাকেন। জবানবন্দিতে একজন কিশোর বলেছে, মুহূর্তের মধ্যেই শাওন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তাকে তোলার সুযোগ পাওয়া যায়নি। পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে দলটির সদস্যরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, কিশোর দলটি কতদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের নামে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই।
নিহত নূরুল্লাহ শাওন আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চর জাকালিয়া গ্রামে।
সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া উদ্বেগজনক। এটি নিয়ন্ত্রণে সামাজিক সচেতনতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি।’
এমএস/